দেশের অসহায়, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত এবং অস্বচ্ছল নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) যৌথ প্রচেষ্টায় দেশজুড়ে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ঘরে বসে আয়ের সুযোগ করে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
কারা পাচ্ছেন এই সুবিধা?
এই বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীরা। বিশেষ করে:
বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী।
তালাকপ্রাপ্ত নারী যারা পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন।
অস্বচ্ছল বা অতিদরিদ্র পরিবারের নারী সদস্য।
শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী যারা কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন।
দুস্থ ও এতিম তরুণী।
আবেদন করার নিয়ম
আগ্রহী নারীরা দুইভাবে এই সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করতে পারেন: ১. সরাসরি আবেদন: আবেদনকারীকে তার নিজ নিজ উপজেলা বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। ২. অনলাইন আবেদন: আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও ঘরে বসে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণ
আবেদন করলেই সরাসরি সেলাই মেশিন পাওয়া যাবে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আগ্রহী নারীদের প্রথমে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে সরকারি বা এনজিও পরিচালিত কেন্দ্রে সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর তাদের দক্ষতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
কেন এই উদ্যোগ?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র আর্থিক অনুদান দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। কিন্তু একজন নারীকে যদি দক্ষ করে তোলা যায় এবং তার হাতে একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া যায়, তবে তিনি নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন। এটি তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে এবং সমাজের মূলধারায় অবদান রাখতে সাহায্য করবে।
আপনার পরিচিত কোনো দুস্থ বা অসহায় নারী যদি এই সুবিধার যোগ্য হন, তবে তাকে দ্রুত নিকটস্থ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করুন। আপনার একটু তথ্য সহযোগিতা পারে একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে দিতে।
