আজকের খবর ২০২৬

প্রশিক্ষণ ভাতা থাকলে কি ডিএ প্রাপ্য? ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি, বিধি ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক

বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত একদিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্রমণ ভাতা (TA) ও দৈনিক ভাতা (DA) প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ চলাকালে আপ্যায়ন বা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী শুধুমাত্র টিএ পাবেন, নাকি যাতায়াতের দিনের জন্য আংশিক ডিএও দাবি করতে পারবেন—এ প্রশ্ন ঘিরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর মধ্যে আলোচনা চলাকালে একাধিক মতামত উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক দপ্তর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে শুধুমাত্র “Only TA” বিল দাখিল করার পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিশেষ করে আইবাস (iBAS++) ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত ভ্রমণ ব্যয় বিল করার সময় “Only TA” অপশন নির্বাচন করার প্রচলন রয়েছে।

প্রশিক্ষণ ভাতা ও ডিএ একসঙ্গে নয়

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষণকালীন প্রশিক্ষণ ভাতা বা অনুরূপ সুবিধা গ্রহণ করলে একই সময়ের জন্য ডিএ দাবি করা যায় না। কারণ প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সময়ের দৈনিক ব্যয়ের বিষয়টি ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, প্রশিক্ষণের দিন ডিএ দাবি না করাই বিধিসম্মত ও নিরাপদ পন্থা। ফলে প্রশিক্ষণ একদিনের হোক বা দীর্ঘমেয়াদি হোক, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু টিএ বিল করা হয়।

ভ্রমণের দিনের জন্য হাফ ডিএ নিয়ে প্রশ্ন

তবে অন্য একটি পক্ষের যুক্তি হলো, প্রশিক্ষণের দিন ডিএ না পেলেও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং প্রশিক্ষণ শেষে নিজ কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তনের জন্য যে ভ্রমণ সম্পন্ন করা হয়, সে ক্ষেত্রে সরকারি ভ্রমণ বিধি অনুযায়ী আংশিক ডিএ প্রাপ্য হতে পারে।

তাদের দাবি, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR)-এ নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সরকারি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ডিএ প্রদানের বিধান রয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়া মানেই ভ্রমণ-সংক্রান্ত ডিএ সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

ভ্রমণ ব্যয়ের অংশ হিসেবে ডিএ

আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, ডিএকে অনেকে কেবল অবস্থান বা রাত্রিযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাতা হিসেবে দেখলেও সরকারি হিসাব ব্যবস্থায় এটি মূলত ভ্রমণ ব্যয়ের একটি উপাদান। অর্থনৈতিক কোডেও সাধারণত ভ্রমণ ব্যয়ের আওতায় এ ধরনের ব্যয় পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

তবে বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক দপ্তর ও হিসাব শাখা প্রশিক্ষণকালীন ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরলীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে শুধুমাত্র টিএ অনুমোদন করে থাকে, যাতে পরবর্তীতে নিরীক্ষা বা আপত্তির ঝুঁকি না থাকে।

তিন দিনের উদাহরণ

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া একটি উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি প্রশিক্ষণের আগের দিন বিভাগীয় শহরে যান, পরদিন প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং তার পরের দিন কর্মস্থলে ফিরে আসেন, তাহলে মোট তিন দিনের সফর হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের দিন ডিএ না থাকলেও যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের দিনের জন্য ডিএ প্রাপ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধি, সরকারি আদেশ এবং দপ্তরের আর্থিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মত

প্রশাসনিক ও হিসাব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণকালীন ভাতা, আপ্যায়ন সুবিধা, অবস্থানের ধরন এবং ভ্রমণের সময়কাল—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিল প্রস্তুত করা উচিত। কোনো ধরনের আর্থিক দাবি উত্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জারি করা পরিপত্র, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) এবং হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, বিধি সম্পর্কে ভিন্নমত থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা হিসাব নিয়ন্ত্রকের লিখিত মতামত গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *