দ্রুত ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে চট্টগ্রামে আলোচনা ও প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় দ্রুত নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে সভা থেকে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটস্থ হর্টিকালচার সেন্টারে এ আলোচনা ও প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি যৌক্তিক, বৈষম্যহীন ও সময়োপযোগী জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়ন ও দ্রুত এর গেজেট প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে আর বিলম্ব করা উচিত নয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম হাওলাদার সাব্বির।
আলোচনায় বক্তব্য দেন মোঃ আবুল মনছুর, কৃষি সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম; মোঃ হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক; সজল দে, চট্টগ্রাম ওয়াসা; এবং মোহাম্মদ ইউছুফ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম।
বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন জাতীয় পে-স্কেলের প্রত্যাশায় রয়েছেন। শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, নতুন বেতন কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে মনোবল ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। এ কারণে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশকে তারা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তুলে ধরেন।
দ্রুত গেজেট প্রকাশের আহ্বান
সভায় বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রতিনিধি সভা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো সংগঠিত করে সরকারের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যয়
চট্টগ্রামের এ প্রতিনিধি সভায় জেলা আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার, কল্যাণ ও পারস্পরিক একতার ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ যৌক্তিক দাবিগুলো শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা থেকে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভার মধ্য দিয়ে ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে চট্টগ্রামে সংগঠনের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

