কোনো প্রকার হয়রানি বা বাড়তি খরচ ছাড়াই কিশোরগঞ্জের কৈলাগ ইউনিয়নের কৈলাগ গ্রামে বিতরণ করা হলো সরকারি সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত উপকারভোগীদের প্রত্যেকের হাতে ৫০,০০০ টাকা করে ঋণ তুলে দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এই ঋণ পেয়ে স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।
ভোগান্তিহীন ঋণ ও নামমাত্র খরচ
বর্তমান সময়ে যেখানে ঋণ পেতে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা এবং দালালের খপ্পরে পড়তে হয়, সেখানে এই ঋণ বিতরণে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ঋণগ্রহীতাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঋণ পাওয়ার জন্য উপকারভোগীদের মাত্র ১০ টাকা (রেভিনিউ স্ট্যাম্প বাবদ) খরচ করতে হয়েছে। এর বাইরে কোনো ধরনের লুকানো খরচ (Hidden Charge) বা বাড়তি ফি নেওয়া হয়নি। ঋণগ্রহীতারা সহজ ১০টি কিস্তিতে এই টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন।
কারা পাচ্ছেন এই ঋণ?
১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে এই সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে। মূলত সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট কমিটিই এই ঋণ বরাদ্দের মূল কর্তৃপক্ষ। ঋণ পাওয়ার প্রধান শর্তাবলি নিচে দেওয়া হলো:
বাসস্থান: আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্বাচিত প্রকল্পের আওতাধীন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
সদস্যপদ: তাকে পল্লী সমাজসেবা কর্মদলের দলীয় সদস্য হতে হবে।
শ্রেণিবিভাগ ও যোগ্যতা: পরিবারের বার্ষিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে ঋণগ্রহীতাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
‘ক’ শ্রেণি (দরিদ্রতম): যাদের পরিবারের বার্ষিক গড় আয় সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা। (তারা ঋণসহ সব সেবা পাবেন)
‘খ’ শ্রেণি (দরিদ্র): যাদের পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ৫০,০০১ টাকা থেকে ৬০,০০০ টাকা। (তারাও ঋণসহ অন্যান্য সেবা পাবেন)
‘গ’ শ্রেণি (দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে): যাদের পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ৬০,০০১ টাকার ওপরে। (তারা সুদমুক্ত ঋণ পাবেন না, তবে অন্যান্য সামাজিক সেবা পাবেন)
নতুনদের জন্য আবেদনের নিয়ম ও সুযোগ
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ঋণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে বিতরণকৃত ঋণ যথাসময়ে আদায় হওয়া সাপেক্ষে নতুন করে আবার ঋণ দেওয়া হয়।
বিশেষ সুবিধা: আপনার গ্রাম বা মহল্লায় যদি এই ঋণ কার্যক্রম আগে থেকেই চালু থাকে, তবে আপনার জন্য ঋণ পাওয়া তুলনামূলক অনেক সহজ হবে। কারণ, সেক্ষেত্রে আপনাকে ওই প্রকল্পের “গ্রাম কমিটিতে” অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হয়।
যাদের এই ঋণের প্রয়োজন, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দ্রুত স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে ঋণ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
