বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোথায় টাকা রাখলে তা নিরাপদ থাকবে এবং লাভও ভালো পাওয়া যাবে? যারা ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’ হতে পারে একটি আদর্শ সমাধান। বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত এই স্কিমটি যেমন নিরাপদ, তেমনি এর মুনাফার হারও বেশ আকর্ষণীয়।
বিনিয়োগে মুনাফার হিসাব
২০২৫ সালের জুলাই মাসের সর্বশেষ সার্কুলার অনুযায়ী, এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে গড়ে ১১.৮০% থেকে ১১.৮৩% হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
১ লাখ টাকায় মুনাফা: মেয়াদ শেষে মোট মুনাফা পাওয়া যাবে ৫৬,১৯৩ টাকা।
বড় বিনিয়োগে মুনাফা: যদি বিনিয়োগ ৭.৫০ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে প্রতি লাখে মুনাফার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩,১০০ টাকা।
বিনিয়োগের সময়সীমা ও পদ্ধতি
এটি একটি ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত। এখানে ৫ বছরের জন্য টাকা জমা রাখতে হয়। ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর মূল টাকা এবং অর্জিত মুনাফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা উত্তোলন করা যায়, সেক্ষেত্রে ওই সময় পর্যন্ত নির্ধারিত হারে মুনাফা প্রদান করা হয়।
কারা এবং কীভাবে কিনতে পারবেন?
যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক একক বা যৌথ নামে এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে:
পরিচয়পত্র: শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে এটি কেনা যাবে। পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে এই সঞ্চয়পত্র কেনা সম্ভব নয়।
বিনিয়োগ সীমা: একজন ব্যক্তি একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। (উল্লেখ্য যে, ৩ মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্র এবং বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ সীমা ৫০ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না)।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করতে নিচের কাগজগুলো সাথে রাখতে হবে: ১. গ্রাহক ও নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি। ২. গ্রাহক ও নমিনির ২ কপি করে মোট ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (একক বিনিয়োগে একক অ্যাকাউন্ট এবং যৌথ বিনিয়োগে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট)। ৪. TIN সার্টিফিকেট: ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে টিন (TIN) লাগে না, তবে বিনিয়োগ ১০ লাখের বেশি হলে টিন সার্টিফিকেট এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক।
কেন বেছে নেবেন ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র?
শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ব্যবসায়িক বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। সরকারি নিশ্চয়তা থাকায় আপনার মূলধন এবং মুনাফা উভয়ই সুরক্ষিত। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহিণী বা যারা ভবিষ্যতের জন্য একটি নিশ্চিত তহবিল গঠন করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ।
সতর্কবার্তা: নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করার আগে সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করে নিন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো অফিসে যোগাযোগ করুন।
