সরকারি কর্মকর্তাদের চারিত্রিক কিংবা অন্য কোনো প্রকার প্রত্যয়নপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের বেড়াজাল আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বা কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব নিশ্চিত না হয়ে প্রত্যয়নপত্র দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগ আনা হবে। একই সঙ্গে একে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (সাবেক সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের এই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার নেপথ্যে কারণ
সরকারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যক্তিদের যে চারিত্রিক ও নাগরিক প্রত্যয়নপত্র দিয়ে থাকেন, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয় না। অনেক সময় প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখিত ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায় না। এতে শুধু যে প্রত্যয়নপত্রের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে তা-ই নয়, বরং বহির্বিশ্বে এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
পরিপত্রের মূল বিষয়সমূহ
জারি করা ওই পত্রে (নং-সম (প্রঃ-২) ৯২/৮৯-৫৩৬(২৫০)) স্পষ্ট করে বলা হয়েছে: ১. যথাযথ যাচাই: কর্মকর্তাদের অবশ্যই প্রত্যায়িত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যাদি সরজমিনে বা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত হতে হবে। ২. আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন: তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে স্বাক্ষর করা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল, যা ১৯৭৯ সালের আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। ৩. বিভাগীয় ব্যবস্থা: এই আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের সকল স্তরে সতর্কতা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ সকল দপ্তর ও অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে দ্রুত অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে এখন থেকে পাসপোর্ট, চাকরির আবেদন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের পথ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অনেক সময় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবে অনেক কর্মকর্তা না বুঝেই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করে বিপদে পড়েন। নতুন এই নির্দেশনার ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত হবে।
সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (সাবেক সংস্থাপন মন্ত্রণালয়), প্রশাসন-২ শাখা।
