ই নামজারি ও ভূমি কর

ভূমিসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন: ২০২৬ থেকে চালু হচ্ছে ডিজিটাল ‘ভূমি মালিকানা সনদ’ (CLO)

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রচলিত কাগুজে দলিলের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি মালিকানা সনদ’ বা CLO (Certificate of Land Ownership) ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে সারা দেশে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা পুরোদমে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

ডিজিটাল ডাটাবেজে আসছে ভূমির তথ্য

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমির তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে নিয়ে আসার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে পরীক্ষামূলক (Pilot) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সফলভাবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২০২৬ সালের মধ্যেই সারা দেশের জমি মালিকদের হাতে কিউআর কোড সম্বলিত স্মার্ট কার্ড বা ডিজিটাল সনদ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

একটি কার্ডেই সব সমাধান

বর্তমানে জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য দলিল, খতিয়ান বা পর্চা আলাদাভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হয়। সিএলও (CLO) চালু হলে এই জটিলতা আর থাকবে না। একটি মাত্র ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড বা কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমেই জমির মালিকানার যাবতীয় তথ্য মুহূর্তেই যাচাই করা যাবে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং এর সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এই সিএলও-কেই মালিকানার চূড়ান্ত এবং অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সনদ পেতে মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ভূমি মালিকানা সনদ বা স্মার্ট কার্ড পেতে নাগরিকদের কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে: ১. ই-নামজারি (e-Mutation): জমির মালিকের নামে অবশ্যই খতিয়ান বা নামজারি সম্পন্ন থাকতে হবে। ২. হালনাগাদ খাজনা: নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ থাকতে হবে। বর্তমানে অনলাইনে ভূমি তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে খাজনা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ৩. স্মার্ট সিস্টেম: এটি মূলত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’-এর আওতায় কিউআর কোড সম্বলিত একটি কার্ড হিসেবে প্রদান করা হবে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএলও ব্যবস্থা চালু হলে ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ এবং ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে:

  • জালিয়াতি রোধ: একই জমি একাধিকবার বিক্রি বা জাল দলিল তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

  • সহজ লেনদেন: জমি কেনাবেচা বা ব্যাংক লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে।

  • অটো-আপডেট: জমি হস্তান্তরের সাথে সাথেই ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিএলও বা মালিকানা তথ্য আপডেট হয়ে যাবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ

আপনার জমির মালিকানা এই আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে এখনই প্রস্তুতি নিন। বিলম্ব না করে দ্রুত আপনার জমির ই-নামজারি সম্পন্ন করুন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ‘দাখিলা’ সংগ্রহ করে রাখুন। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় আপনার অংশগ্রহণই আপনার সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *