সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) বা সাধারণ ভবিষ্য তহবিল। প্রতি অর্থবছর শেষে জিপিএফে জমাকৃত অর্থের ওপর সরকার নির্ধারিত হারে মুনাফা (সুদ) যোগ হয়। তবে অনেক চাকরিজীবীই জানেন না কীভাবে এই মুনাফা হিসাব করা হয়।
সম্প্রতি প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে জিপিএফ মুনাফা গণনার দুটি সহজ সূত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে চাকরিজীবীরা নিজেরাই তাদের বার্ষিক জিপিএফ মুনাফার হিসাব মিলিয়ে নিতে পারবেন। একই ধরনের হিসাব সরকারি জিপিএফ ক্যালকুলেটরেও ব্যবহার করা হয়।
যখন ১২ মাস একই হারে কর্তন হয়
যদি পুরো অর্থবছর (১২ মাস) একই পরিমাণ জিপিএফ কর্তন হয়ে থাকে, তাহলে হিসাবের সূত্র হবে—
- পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষের স্থিতি × সুদের হার
- প্রতি মাসের কর্তনের পরিমাণ × ০.৮৪৫ (১৩% সুদের ক্ষেত্রে)
এরপর দুটি ফল যোগ করলে মোট বার্ষিক মুনাফা পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ,
মোট সুদ = (পূর্বের স্থিতি × ০.১৩) + (মাসিক কর্তন × ০.৮৪৫)
এই ০.৮৪৫ গুণকটি ১৩ শতাংশ সুদের হারে ১২ মাসের সমান মাসিক জমার ওপর গড় সুদের হিসাব থেকে নির্ধারিত হয়।
যদি জুলাই মাস থেকে কর্তনের পরিমাণ পরিবর্তন হয়
অনেক ক্ষেত্রে নতুন ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি বা বেতন পরিবর্তনের কারণে জুলাই মাস থেকে জিপিএফ কর্তনের পরিমাণ বদলে যায়। সে ক্ষেত্রে হিসাবও কিছুটা ভিন্ন হবে।
সূত্রটি হলো—
- পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষের স্থিতি × ০.১৩
- জুলাই মাসের কর্তনের হার × ০.১৩ (প্রথম মাসের জন্য)
- অবশিষ্ট ১১ মাসের মাসিক কর্তন × ০.৭১৫
সবগুলো যোগ করলে মোট সুদের পরিমাণ পাওয়া যাবে।
উদাহরণ
ধরা যাক—
- পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ স্থিতি = ৪,৫০,০০০ টাকা
- জুলাই মাসের কর্তন = ৬,৫০০ টাকা
- পরবর্তী ১১ মাসের কর্তন = ৭,২০০ টাকা
তাহলে হিসাব হবে—
- ৪,৫০,০০০ × ০.১৩ = ৫৮,৫০০ টাকা
- ৬,৫০০ × ০.১৩ = ৮৪৫ টাকা
- ৭,২০০ × ০.৭১৫ = ৫,১৪৮ টাকা
মোট মুনাফা = ৬৪,৪৯৩ টাকা।
সরকারি ক্যালকুলেটরেও একই নীতি
হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের অধীন Chief Accounts Officer (Pension and Fund Management)-এর অনলাইন জিপিএফ ক্যালকুলেটরে একই ধরনের সূত্র অনুসরণ করে হিসাব করা হয়। সেখানে আগের বছরের সমাপনী স্থিতি, মাসিক কর্তন, সুদের হার এবং অগ্রিম উত্তোলনের তথ্য দিয়ে সহজেই সম্ভাব্য জিপিএফ ব্যালেন্স ও মুনাফা জানা যায়।
চাকরিজীবীদের জন্য পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছর শেষে জিপিএফ স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর নিজস্ব হিসাবের সঙ্গে সরকারি হিসাব মিলিয়ে দেখা উচিত। যদি কোনো অসঙ্গতি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা ডিডিও (DDO) কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই করা যেতে পারে। এছাড়া যারা বছরে একাধিকবার জিপিএফ কর্তনের হার পরিবর্তন করেন বা অগ্রিম উত্তোলন করেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ হিসাবের জন্য সরকারি অনলাইন জিপিএফ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
