আজকের খবর ২০২৬

প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: যৌথ পাওয়ারদাতার একজনের মৃত্যু হলেও বাতিল হবে না ক্ষমতাপত্র

প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিধান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে। ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২’-এর ৮ ধারায় যৌথ পাওয়ারদাতার (Principal) একজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকারিতা কী হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইনের এ বিধান অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে কোনো প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেন এবং সেটি কার্যকর হওয়ার আগেই তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে, তাহলে শুধু ওই মৃত্যুর কারণে পুরো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল হয়ে যাবে না।

কী বলছে আইন?

আইনের বিধান অনুযায়ী, যৌথ পাওয়ারদাতাদের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করলে, বেঁচে থাকা অন্যান্য পাওয়ারদাতারা মৃত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে তারা এমনভাবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যসম্পাদন চালিয়ে যেতে পারবেন, যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেনি।

অর্থাৎ, একজনের মৃত্যুর কারণে পুরো ক্ষমতাপত্র অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, অবশিষ্ট পাওয়ারদাতাদের মাধ্যমে ক্ষমতাপত্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাবে।

কেন এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করে থাকেন। যদি একজনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্ষমতাপত্র বাতিল হয়ে যেত, তাহলে চলমান কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতো।

এই বিধান সেই জটিলতা কমিয়ে আইনি ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে এবং অবশিষ্ট পাওয়ারদাতাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়।

নাগরিকদের জন্য করণীয়

আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরি করার সময় দলিলে শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। একই সঙ্গে যৌথ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কার কী দায়িত্ব এবং কোন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাপত্র কার্যকর থাকবে বা বাতিল হবে—এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

তবে এই বিধান প্রত্যাহারযোগ্য (Revocable) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশ, আইনগত বাধা, দলিলে উল্লেখিত বিশেষ শর্ত অথবা অন্যান্য আইনি কারণে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দলিল ও প্রযোজ্য আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *