বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি এখন থেকে বদলির প্রক্রিয়াও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)-র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অটোমেশন
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে এনটিআরসিএ-র কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল কাঠামোয় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমরা এনটিআরসিএ তৈরি করেছিলাম শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য। বর্তমানে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।”
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের (Automated Software) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না, যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বদলি নীতিমালা ২০২৬’ এর মূল দিকসমূহ:
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি জারি করা ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তারোপ করা হয়েছে:
আবেদনের যোগ্যতা: একজন শিক্ষক তার সমগ্র চাকরিকালীন সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির পর পরবর্তী আবেদনের জন্য অন্তত দুই বছর ওই কর্মস্থলে কর্মরত থাকতে হবে।
অগ্রাধিকারের ভিত্তি: বদলির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষক, বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্থায়ী ঠিকানার দূরত্ব এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলের তথ্য iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা: একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক একসাথে বদলি হতে পারবেন না।
আবেদন পদ্ধতি: শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ০৩ (তিন)টি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। মেধা, চয়েজ এবং শূন্য পদের ভিত্তিতে টেলিটকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত হবে।
সফটওয়্যার আপডেট ও বাস্তবায়ন
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধুমাত্র প্রবেশ পর্যায়ের (এন্ট্রি লেভেল) শিক্ষক নয়, বরং প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ-প্রধান এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও বদলির আওতায় আনার কাজ চলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য বিদ্যমান সফটওয়্যারটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। কারিগরি কাজ শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বদলি সমস্যার একটি স্থায়ী ও ডিজিটাল সমাধান হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করা সহজ হবে।
