২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বর্তমানে আমরা ২০২৪-২০২৫ আয় বছরে (১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত) অবস্থান করছি। আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতা যদি নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ বা দান করেন, তবে তিনি তার প্রদেয় করের ওপর একটি বড় অংশ রেয়াত (Rebate) বা ছাড় পেতে পারেন। এই সুযোগ গ্রহণের জন্য আগামী ৩০ জুন ২০২৬ (অর্থাৎ আয় বছর সমাপ্তির) মধ্যে বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
১. কত টাকা কর রেয়াত পাওয়া যাবে?
আয়কর আইন-২০২৩ এর ধারা ৭৮ অনুযায়ী, একজন নিবাসী করদাতা (ব্যক্তি) তিনটি অংকের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, সেই পরিমাণ টাকা কর রেয়াত হিসেবে পাবেন:
মোট করযোগ্য আয়ের ৩% (কিছু নির্দিষ্ট আয় বাদে); অথবা
প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫%; অথবা
১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা।
২. রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের প্রধান খাতসমূহ (ষষ্ঠ তফসিল অনুসারে):
আপনার করের বোঝা কমাতে নিচের খাতগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারেন:
সঞ্চয়পত্র: সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ।
ডিপিএস (DPS): বাৎসরিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
শেয়ার বাজার: তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, ইউনিট সার্টিফিকেট বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ।
জীবন বীমা: জীবন বীমার প্রিমিয়াম (পলিসি ভ্যালুর ১০% পর্যন্ত)।
ভবিষ্য তহবিল: স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে (Provident Fund) কর্মীর অবদান।
সরকারি সিকিউরিটিজ: ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ।
৩. দান বা অনুদানের মাধ্যমে রেয়াত:
বিনিয়োগ ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানে দান করলে কর ছাড় পাওয়া যায়:
জাতির জনকের স্মরণে স্থাপিত কোনো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান।
যাকাত তহবিলে প্রদান।
অনুমোদিত কোনো দাতব্য হাসপাতাল বা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থায় অনুদান।
সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান।
৪. একটি গাণিতিক উদাহরণ:
ধরুন, আপনার বাৎসরিক আয় ৫,০০,০০০ টাকা এবং আপনি সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস মিলিয়ে মোট ১,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
আপনার বিনিয়োগের ১৫% = ২২,৫০০ টাকা।
আপনার আয়ের ৩% = ১৫,০০০ টাকা।
সর্বোচ্চ সীমা = ১০,০০,০০০ টাকা।
এই তিনটির মধ্যে সর্বনিম্ন হলো ১৫,০০০ টাকা। অর্থাৎ, আপনি আপনার মোট প্রদেয় কর থেকে সরাসরি ১৫,০০০ টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা কর হিসেবে জমা দেবেন।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
বিনিয়োগের মাধ্যমে কর সাশ্রয় করতে হলে অবশ্যই বিনিয়োগের প্রমাণপত্র (যেমন: সঞ্চয়পত্রের কপি, ডিপিএস স্টেটমেন্ট বা বীমার রসিদ) সংগ্রহে রাখতে হবে। মনে রাখবেন, আয় বছর শেষ হওয়ার পর (৩০ জুনের পরে) বিনিয়োগ করলে ওই বছরের জন্য কোনো রেয়াত পাওয়া যাবে না। তাই আপনার কর পরিকল্পনা আজই চূড়ান্ত করুন।
