BD Govt Service Rules

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী কী সরকারি সুবিধা পান—আইনে যা আছে, একনজরে ১২ বিষয়

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং দেশের প্রতিনিধিত্বের কারণে রাষ্ট্রপতির জন্য বেতন, বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আইন দ্বারা নির্ধারিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ইনফোগ্রাফিকে রাষ্ট্রপতির ১২ ধরনের সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ছবিতে থাকা সব তথ্যকে হুবহু আইনের ভাষা হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধার মূল আইন কোনটি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পারিতোষিক ও প্রাধিকার নির্ধারণের প্রধান আইন হলো The President’s (Remuneration and Privileges) Act, 1975। আইনটি ১৯৭৫ সালে প্রণীত এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে। সরকারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যেও রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত আইন হিসেবে এই আইন এবং রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬-এর উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা কেবল প্রচলিত প্রথা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর একটি বড় অংশ সরাসরি আইন দ্বারা নির্ধারিত।

১. সরকারি বাসভবন

রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবনের ব্যবস্থা রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন সরকারিভাবে সাজানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে। বাসভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ নির্দিষ্ট ব্যয়ও সরকারি ব্যবস্থায় বহন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি চাইলে সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে নিজের বাড়ি বা অন্য কোনো বাসভবনে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার ব্যয় সরকার বহন করার বিধান রয়েছে।

২. বেতন ও আপ্যায়ন ভাতা

আইন অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। ২০১৬ সালের সংশোধনের মাধ্যমে এই বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়।

এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা sumptuary allowance-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বিনোদন/আপ্যায়নে ব্যয়িত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ এই খাতে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতির মোট সরকারি সুবিধা শুধু মাসিক বেতনের অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সরকারি সফরসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ব্যয় আলাদা ব্যবস্থায় বহন করা হয়।

৩. পরিবহন সুবিধা

রাষ্ট্রপতির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পরিবহন ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিজের এবং পরিবারের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন সরকারি খরচে ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি সফর ও সফরকালীন অবস্থানের ব্যয়ও সরকার বহন করে।

এ সুবিধার উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়; বরং রাষ্ট্রপতির নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন নিশ্চিত করা।

৪. নিরাপত্তা সুবিধা

রাষ্ট্রপতি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-ঝুঁকিপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকেন। তাই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। রাষ্ট্রপতির বাসভবন, চলাচল, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ।

তবে ইনফোগ্রাফিকে উল্লেখ করা ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী’ বা নির্দিষ্ট বাহিনীর নামকে সব পরিস্থিতিতে একইভাবে প্রযোজ্য মনে করা ঠিক হবে না; দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরন পরিস্থিতি ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

৫. বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থে ব্যবস্থা করার বিধান রয়েছে। আইনেই সরকারি বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং এসব পরিষেবার ব্যয় বহনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অতএব ইনফোগ্রাফিকের ‘বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সুবিধা’ বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অংশ।

৬. চিকিৎসা সুবিধা

রাষ্ট্রপতি ও তাঁর আইনে সংজ্ঞায়িত পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা অত্যন্ত বিস্তৃত। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে সক্ষম যে কোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত বাসভবনেও চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

শুধু দেশেই নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিদেশেও চিকিৎসা নেওয়া এবং সরকার নির্ধারিত ব্যবস্থায় সেই চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করতে পারে।

এটি ইনফোগ্রাফিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এর সরাসরি আইনগত ভিত্তি রয়েছে।

৭. দেশ-বিদেশ ভ্রমণ

রাষ্ট্রপতির সরকারি সফরের ব্যয় সরকার বহন করে। দেশের বাইরে সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া বিমান ভ্রমণের জন্য রাষ্ট্রপতির বার্ষিক ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা কভার দেওয়ার বিধান রয়েছে। ২০১৬ সালের সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা থেকে ২৭ লাখ টাকা করা হয়।

৮. অফিস ও কর্মী সুবিধা

রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য আলাদা সচিবালয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় তাঁর সাংবিধানিক, আইনগত ও নির্বাহী কার্যাবলি সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেয়।

তাই ইনফোগ্রাফিকে বলা ‘অফিস ও কর্মী সুবিধা’ মূলত রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকে বোঝায়।

৯. যোগাযোগ সুবিধা

রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় টেলিফোন ও অন্যান্য যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। সরকারি বাসভবনের টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যয়ও আইনের আওতায় সরকারি ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়।

এখানে ‘বিশেষ যোগাযোগ সুবিধা’ বলতে সাধারণ নাগরিকের মতো ব্যক্তিগত যোগাযোগ সুবিধার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বোঝানো অধিক যুক্তিসঙ্গত।

১০. আনুষ্ঠানিক মর্যাদা

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও প্রটোকলে বিশেষ মর্যাদা পান। শপথ গ্রহণ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করা হয়।

তবে ‘আনুষ্ঠানিক মর্যাদা’ কোনো নির্দিষ্ট নগদ ভাতা নয়। এটি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পদ ও রাষ্ট্রাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা।

১১. অবসর-পরবর্তী সুবিধা

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট শর্তে কিছু সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে আলাদা আইন—রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬—প্রযোজ্য। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি তথ্যেও এই আইনটি রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত আইন হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

২০১৬ সালের আইনের আওতায় যোগ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন অবসর ভাতা, চিকিৎসা, সরকারি পরিবহন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট, সরকারি বাসস্থান-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে এসব সুবিধার আইনগত ভিত্তি আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে সব সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব সুবিধা পাবেন—এমন নয়। আইনে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও সুবিধা বাতিলের শর্ত রয়েছে।

১২. অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা

রাষ্ট্রপতির জন্য আইন অনুযায়ী আরও কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্বেচ্ছাধীন মঞ্জুরি বা discretionary grant। আইন অনুযায়ী বর্তমানে এই মঞ্জুরির পরিমাণ বছরে ২ কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ প্রদানেরও আইনি বিধান রয়েছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ছবির ১২টি পয়েন্ট কি সবই একই আইনের ধারা?

না। ইনফোগ্রাফিকটি মূলত সাধারণ পাঠকের বোঝার সুবিধার জন্য রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধাগুলোকে ১২টি ভাগে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু এর সবগুলো একই আইনের একই ধরনের ‘ভাতা’ নয়।

কিছু সুবিধা সরাসরি President’s (Remuneration and Privileges) Act, 1975-এ রয়েছে—যেমন বেতন, সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, ভ্রমণ, বিমান বীমা ও স্বেচ্ছাধীন মঞ্জুরি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক সহায়তা, প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধার কিছু অংশ পৃথক আইন, সরকারি কাঠামো ও বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত একাধিক আইন ও বিধির বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছে।

কেন এসব সুবিধা দেওয়া হয়?

রাষ্ট্রপতির এসব সুবিধাকে কেবল ব্যক্তিগত সুবিধা হিসেবে দেখলে বিষয়টির সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান এবং তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সাংবিধানিক কার্যক্রম, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব রয়েছে।

এই দায়িত্বগুলো যাতে ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়, সে কারণেই আইন রাষ্ট্রপতির জন্য নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা নির্ধারণ করেছে।

সারসংক্ষেপ

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি সুবিধা শুধু মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন-এ সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, দেশ-বিদেশে সরকারি সফর, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বিমান ভ্রমণের বীমা, দাপ্তরিক সহায়তা এবং নির্দিষ্ট আর্থিক মঞ্জুরিসহ বিস্তৃত রাষ্ট্রীয় সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব সুবিধার বড় অংশের ভিত্তি আইন। ফলে রাষ্ট্রপতির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা বা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ইনফোগ্রাফিকের তথ্য সরাসরি গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির পদে দায়িত্ব পালনকালে প্রাপ্য সুবিধা এবং পদ ছাড়ার পর প্রাপ্য সুবিধা—এই দুই বিষয়ও আলাদা করে দেখা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *