মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশিকা পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম, পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট নজরে এলে তা মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব
মাউশির পরিচালক (পরিচালনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. সুবলচন্দ্র সূত্রধরের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জারিকৃত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ এবং মাউশি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা ও সরকারি আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছেন কি না, তা পরিবীক্ষণের জন্য অধিদপ্তর কর্তৃক একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
কোন ধরনের পোস্ট বা কার্যক্রম নজরে এলে জানাতে হবে
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের কোনো সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ কিংবা প্রচার করলে, যা সরকারি নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, অসত্য, নেতিবাচক কিংবা দায়িত্বশীল আচরণের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ—তা নজরে এলে যথাযথ প্রমাণসহ মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে তথ্য সরাসরি মনিটরিং কমিটির আহ্বায়কের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ই-মেইল ঠিকানা হিসেবে director.mew@gmail.com উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী বা মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যের এমন কোনো কার্যক্রম নজরে এলে সেটি যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণসহ কমিটিকে জানানো যাবে।
অবহিত করার সময় যেসব তথ্য দিতে হবে
মাউশির নির্দেশনায় অভিযোগ বা তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থল:
যার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তার নাম, পদবি এবং কর্মস্থলের তথ্য দিতে হবে।
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইলের লিংক:
কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্টটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইলের লিংক দিতে হবে।
৩. পোস্ট/স্ট্যাটাস প্রকাশের তারিখ ও সময়:
সংশ্লিষ্ট পোস্ট, স্ট্যাটাস, ছবি, ভিডিও বা কনটেন্টটি কখন প্রকাশ করা হয়েছে, তার তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হবে।
৪. স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ:
অভিযোগ বা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টের স্ক্রিনশট অথবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে।
ফলে শুধু কোনো পোস্টের বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংক, পোস্টের সময়-তারিখ এবং প্রমাণসহ তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন এমন নির্দেশনা
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ কারণে সরকারি নির্দেশনা ও আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাউশি এ মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে নির্দেশনা থেকে প্রতীয়মান হয়।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা কনটেন্ট যাতে সরকারি নির্দেশনা, শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীল আচরণ কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
মাউশির এই নির্দেশনার ফলে অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পোস্ট বা কার্যক্রম নির্দেশিকা পরিপন্থী বলে মনে হলে যাচাইযোগ্য তথ্য ও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
কারা নির্দেশনাটি পাবেন
নির্দেশনাটির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (সকল), আঞ্চলিক পরিচালক (সকল), অধ্যক্ষ (সকল), সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট, ইএমআইএস সেল, মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে।
মাউশির এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকে সরকারি নির্দেশনা ও দায়িত্বশীল আচরণের কাঠামোর মধ্যে রাখা এবং নির্দেশিকা পরিপন্থী কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবহিত হওয়ার ব্যবস্থা কার্যকর করা।
সার্বিকভাবে, মাউশির নতুন নির্দেশনায় একদিকে যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে নির্দেশিকা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তা মনিটরিং কমিটিকে জানানোর প্রক্রিয়াও স্পষ্ট করা হয়েছে।

