মাসিক কিস্তিতে গাড়ি ২০২৬ । গাড়ি কেনার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরামর্শ জানুন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গাড়ি বিলাসী পন্য মনে হলেও বর্তমানে আমাদের দেশে মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই গাড়ি কিনছেন।
উন্নত বিশ্বে ব্যাংক লোনের মাধ্যেমে সবাই গাড়ি কিনে থাকেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে গত ২০ বছর যাবত বিভিন্ন ব্যাংক গাড়ি ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রদান করে আসছে।
সহজ শর্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক সুদহারের জন্য গাড়ি এখন দেশের মানুষের হাতের মুঠোই। ব্যাংক সমূহ গাড়ির মূল্যের ৫০% পর্যন্ত যোগান দিয়ে থাকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো প্রায় শতভাগ অর্থ যোগান দিয়ে থাকে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার তুলনামূলক ভাবে বেশি হয়ে থাকে। আর তাই বলা যায় গাড়ি কেনা এখন আর কোন আহামরি স্বপ্ন নয় আমাদের কাছে। কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য থাকলেই আপনিও সহজ কিস্তিতে গাড়ি কিনে নিতে পারেন।
ব্যাংক থেকে গাড়ি ক্রয় ঋণের যোগ্যতা,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,শর্ত এবং কিছু পরামর্শ জানবো।
গাড়ি কেনার যোগ্যতা
পেশাভেদে শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, সরকারি চাকুরিজীবি, বেসরকারি চাকুরিজীবি ও বাড়ির মালিকগন গাড়ি ঋণ নিতে পারেন।
তবে শ্রেণীপেশা ভেদে কাগজপত্র ও অন্যান্য শর্ত ভিন্ন হয়ে থাকে।
গাড়ির ধরণ: নতুন গাড়ি এবং রিকন্ডিশন গাড়িতে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে। তবে মনে রাখতে হবে উক্ত গাড়ি কে বাংলাদেশে অ-নিবন্ধিত হতে হবে। বিআরটিএ তে নিবন্ধিত কোন গাড়িতে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে না।
আয়কর প্রদান কারী হতে হবে: ঋণ আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন আয়কর প্রদানকারী নাগরিক হতে হবে। তবে পূর্বে হতে আয়কর প্রদান না করলেও অনেকে অগ্রিম আয়কর ৩,০০০/- বা ৫,০০০/- টাকা প্রদান করে ঋণ আবেদন করতে পারেন।
ঋণের মেয়াদ: ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদী ঋণ দিতে পারে। তবে অনেক ব্যাংক নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদী ঋণ দেয় তবে রিকন্ডিশন গাড়িতে ৪ বছর মেয়াদী ঋণ দেয়। এ নিয়ম অল্প কিছু ব্যাংক মেনে চলে, সাধারণত বেশিরভাগ ব্যাংক ৫ বছর মেয়াদী ঋণ দেয়।
সুদের হার: ব্যাংক ভেদে ৭.৫০% থেকে ৯.০০%।
ঋণের পরিমান: ব্যাংক গাড়ির মোট মূল্যের ৫০% বা সর্বোচ্চ ৪০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করে তবে আপনাকে অর্ধেক দিতে হবে। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়।
আবেদনকারীর বয়স: আবেদনকারীর সর্বোচ্চ বয়স ঋণ মেয়াদান্তে ৬৫ বছর হতে হবে। সর্বনিæ বয়স ব্যাংক ভেদে ১৮ থেকে ২১ বছর।
চাকুরীজীবির ক্ষেত্রে: আপনি চাকুরিজীবি হলে আপনার চাকুরি স্থায়ী হতে হবে। চাকুরির বয়স ২ বছর বা তার অধিক হতে হবে।
ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে: কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছরের ধারাবাহিক ব্যবসার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পেশাজীবি হলে: পেশাজীবি যেমন ডাক্তার, উকিল, ইঞ্জিনিয়ার হলে প্রাকটিসের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে।
মাসিক আয়: মাসিক আয় কিস্তির ৩ গুন হতে হবে।
কিস্তিতে গাড়ি ক্রয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্র,৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট,স্যালারি সার্টিফিকেট,ভিজিটিং কার্ড,ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স,বিদ্যুৎ বিলের কপি,নিজ নামে বাড়ির কাগজপত্র ইত্যাদি।
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন: গাড়ির রেজিস্ট্রেশন অবশ্যই যৌথ নামে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক এবং গ্রাহকের নামে। ঋণ সমন্বয় হওয়ার পর গাড়ি ঋণ গ্রাহকের নামে হস্তান্তর করা হবে।
কিস্তি পরিশোধ অনাদায়ে গাড়ি জব্দ: ঋণ গ্রহনের পরের মাস হতে কিস্তি প্রদান করতে হয়। ২/৩ মাস কিস্তি প্রদান না করতে পারলে ব্যাংক গাড়ি জব্দ করে নেয়। ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে গাড়ি নিলামে বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করা হয়।
অন্যান্য শর্ত, পরামর্শ ও টিপস
১. আয় যত বেশি হবে, ঋণ তত বেশি পাওয়া যাবে।
২. আপনার আয়ের যত ধারাবাহিকতা থাকবে আপনার ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।
৩. নতুন গাড়িতে ঋণ পাওয়া সহজ, বেশি পুরনো গাড়িতে ব্যাংক ঋণ দিতে চায়না।
৪. ব্যাংক জাপানী এবং প্রসিদ্ধ ব্রান্ড গাড়িতে ঋণ দেয়, ইন্ডিয়ান ও চায়না গাড়িতে ঋণ কেউ দিতে চায়না।
৫. সুদেরহার ব্যাংক ভেদে ৭.৫০% থেকে ৯.০০%।
৬. রিকন্ডিশন গাড়ি কিনলে প্রসিদ্ধ শো-রুম থেকে কিনুন। গাড়ির মাইলেজ, নিলাম গ্রেড যাচাই করুন। কারন গাড়ির মাইলেজ, নিলাম গ্রেড গাড়ির দাম নির্ধারনে বড় ভুমিকা রাখে। প্রসিদ্ধ শো-রুম থেকে কিনলে বিক্রয় পরবর্তী সেবা ভাল পাবেন।
৭. গাড়ির আমদানী নথি দেখে নিন সম্ভব হলে যাচাই করুন।






ব্যাংক লোনের মাধ্যমে একটি গাড়ি কিনতে চাই