BD Govt Service Rules

iBAS++-এ চলমান বেতন নির্ধারণ: GoB Staff-এর Pay Fixation নিয়ে নতুন তথ্য, ধাপে ধাপে যেভাবে হবে

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে Pay Fixation বা নতুন বেতন নির্ধারণ নিয়ে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর ধরা হলেও প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ, যাচাই ও পরবর্তী বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য এখন iBAS++-ভিত্তিক অনলাইন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অর্থ বিভাগের জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ নতুন বেতনস্কেল কার্যকর, পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতনে নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বেতন নির্ধারণের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে আদেশটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে সরকারি iBAS++ পোর্টালে অনলাইন বেতন নির্ধারণের বিভিন্ন অপশন এবং লগইন পদ্ধতি সক্রিয় রয়েছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে—চলমান GoB Staff-এর বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, কোন তথ্য লাগবে, কোন পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ অফিস যাচাই করবে এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার পর বকেয়া কীভাবে সমন্বয় হবে।

১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। অর্থাৎ ওই তারিখের অব্যবহিত পূর্বে প্রচলিত বেতনস্কেলের পরিবর্তে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ১ জুলাই থেকেই প্রত্যেক কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে নতুন কাঠামোর পুরো বেতন চলে যাবে। গেজেট অনুযায়ী নতুন বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে বাস্তবে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে—

প্রথমত: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কোন নতুন বেতন নির্ধারিত হবে।

দ্বিতীয়ত: নির্ধারিত বেতনের অতিরিক্ত অংশ কোন পর্যায়ে কত শতাংশ হারে কার্যকর হবে।

এই পার্থক্যটি না বুঝলে অনেক কর্মচারীর মধ্যেই নতুন বেতন নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

GoB Staff-এর ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ কী?

সরকারি iBAS++-এর বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের অপশন রয়েছে। সরকারি পোর্টালে চলমান বেতন নির্ধারণ, নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড, ইনক্রিমেন্টসহ একাধিক অপশন আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। iBAS++ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কোনো অপশনে কৌতূহলবশত তথ্য এন্ট্রি করা হলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অপশনে তথ্য দেওয়ার সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

অর্থাৎ, চলমান বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ—সবকিছুকে একই প্রক্রিয়া মনে করলে ভুল হবে।

কর্মচারীর বাস্তব চাকরির অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে।

নতুন পে স্কেলে বেতন নির্ধারণের মূল ভিত্তি ৩০ জুনের বেতন

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান মূল বেতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরোনো বেতনস্কেলের পরিবর্তে নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেল কার্যকর হবে।

এ কারণে কর্মচারীর নিজের ক্ষেত্রে শুধু নতুন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন দেখলে হবে না।

দেখতে হবে—

  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন কত ছিল;
  • কোন গ্রেডে ছিলেন;
  • কোন ধাপে ছিলেন;
  • সর্বশেষ ইনক্রিমেন্ট কবে পেয়েছেন;
  • পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন কি না;
  • কোনো Personal Pay রয়েছে কি না;
  • পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য কী;
  • চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য iBAS++-এ সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কি না।

এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ব্যক্তিভেদে নতুন বেতন নির্ধারণের ফল আলাদা হতে পারে।

নতুন বেতনের পুরো পার্থক্য একসঙ্গে পাওয়া যাবে না

নতুন বেতনস্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—নতুন নির্ধারিত বেতন এবং পুরোনো বেতনের পার্থক্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

গেজেটভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত বেতন ও ৩০ জুনের প্রাপ্ত/প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে একই সময়ে ওই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।

পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: পার্থক্যের ৭০ শতাংশ;
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ—

কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।

এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী শতভাগ মূল বেতন এবং প্রযোজ্য বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তাহলে Pay Fixation কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এখানেই iBAS++ Pay Fixation-এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

কারণ নতুন পে স্কেলে একজন কর্মচারীর জন্য নির্ধারিত বেতন কত হবে, সেটি সঠিকভাবে নির্ধারণ না হলে পরবর্তী ধাপে—

বেতন বিল → বকেয়া → GPF → আয়কর → সরকারি ঋণ → EFT-এর মাধ্যমে বেতন প্রদান

ইত্যাদি হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন পে স্কেলের পরও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার এসব কার্যক্রম iBAS++ কাঠামোর মধ্যেই চলবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

iBAS++-এ কীভাবে প্রবেশ করবেন?

নতুন অনলাইন Pay Fixation ব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীর শ্রেণি অনুযায়ী লগইন পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, গেজেটেড সরকারি কর্মচারীর জন্য iBAS++ User ID ও Password এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীর ক্ষেত্রে NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হয়।

iBAS++-এর অনলাইন বেতন নির্ধারণ পেজেও NID এবং ভেরিফিকেশন কোডের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ কর্মচারীদের জন্য iBAS++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য সঠিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Pay Fixation-এ কোন কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন বেতন নির্ধারণের আগে প্রত্যেক কর্মচারীর নিচের তথ্যগুলো যাচাই করা জরুরি—

১. ব্যক্তিগত তথ্য

  • নাম
  • NID নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • মোবাইল নম্বর

২. চাকরির তথ্য

  • নিয়োগের তারিখ
  • পদ
  • বর্তমান কর্মস্থল
  • বর্তমান গ্রেড
  • চাকরির ধরন

৩. বেতনসংক্রান্ত তথ্য

  • ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন
  • বেতন ধাপ
  • সর্বশেষ ইনক্রিমেন্ট
  • ইনক্রিমেন্টের তারিখ
  • Personal Pay থাকলে তার তথ্য

৪. পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেড

  • পদোন্নতির তারিখ
  • পদোন্নতির আদেশ
  • উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখ
  • পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ

চাকরির পদ, গ্রেড, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য iBAS++-এ সঠিকভাবে হালনাগাদ রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উচ্চতর গ্রেড থাকলে হিসাব আরও সতর্কভাবে করতে হবে

একই কর্মচারীর ক্ষেত্রে যদি ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে বা পরে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ চলমান বেতন নির্ধারণের সঙ্গে সেটিকে এক করে দেখলে সমস্যা হতে পারে।

কারণ iBAS++-এ উচ্চতর গ্রেডের জন্য পৃথক অপশন রয়েছে।

একইভাবে পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো কারণে বেতন পুনর্নির্ধারণ প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে।

এ কারণে কোনো কর্মচারী যদি একই সময়ে একাধিক ধরনের বেতন নির্ধারণের অধিকারী হন, তাহলে যে বিষয়টি আগে প্রাপ্য, সেটি আগে সম্পন্ন করার নীতি iBAS++-এর নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

হিসাবরক্ষণ অফিসের ভূমিকা কী?

অনলাইন Pay Fixation শুধু কর্মচারীর তথ্য পূরণ করেই শেষ হবে না।

সরকারি iBAS++ নির্দেশনায় অনলাইন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি পরবর্তী বেতন পুনর্নির্ধারণ, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত নির্ধারণী ফরম হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে প্রতিপাদনের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রক্রিয়াটি মোটামুটি তিনটি স্তরে ভাবা যায়—

কর্মচারীর তথ্য → iBAS++-এ Pay Fixation → হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই/অনুমোদন

এরপর নির্ধারিত বেতন অনুযায়ী পরবর্তী বেতন বিল ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাব সমন্বয়ের কাজ এগোবে।

১ অক্টোবর থেকে অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী iBAS++-এ অনলাইন Pay Fixation কার্যক্রম ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পাইলট পর্যায়ে শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এরপর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এটি সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশিত সূচিতে বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগকে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কোন হিসাবরক্ষণ অফিসে কোন তারিখে কার্যক্রম কার্যকর হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া উচিত। কারণ পাইলট ও ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের সময়সূচি প্রশাসনিকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

১ জুলাই থেকে বকেয়ার বিষয়টি কী?

নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও গেজেট প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে। ফলে ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গেজেটে এই সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ সমন্বয়ের বিষয়ও রয়েছে।

তাই কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বকেয়া হিসাব করার সময় শুধু নতুন মূল বেতন এবং পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য দেখলেই হবে না; আগে পরিশোধিত বিশেষ সুবিধা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সমন্বয়ও বিবেচনায় আসবে।

১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধার প্রভাব

নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে পূর্ববর্তী বিশেষ সুবিধা বাতিল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে কোনো কর্মচারী যদি ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়ে পুরোনো বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন, নতুন বেতন কাঠামোর বকেয়া নির্ধারণের সময় সেই অর্থ সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

এ কারণে প্রত্যাশিত বকেয়া এবং বাস্তবে ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিলে প্রথমেই Pay Fixation Statement ও বকেয়া হিসাবের বিবরণ যাচাই করা প্রয়োজন।

কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?

Pay Fixation শুরু হওয়ার আগে কর্মচারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিজেদের তথ্য যাচাই করা।

বিশেষ করে—

প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন সঠিক আছে কি না দেখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের তারিখ ও বেতনধাপ মিলিয়ে নিতে হবে।

তৃতীয়ত, পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশ প্রস্তুত রাখতে হবে।

চতুর্থত, iBAS++-এ NID, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, নিজের ক্ষেত্রে ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ নাকি পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের মতো অন্য কোনো অপশন প্রযোজ্য—তা বুঝে নিতে হবে।

ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?

Pay Fixation-এর সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা হচ্ছে চাকরির পূর্ববর্তী তথ্য।

যদি—

  • যোগদানের তারিখ ভুল থাকে,
  • ইনক্রিমেন্ট বাদ পড়ে,
  • পদোন্নতির তারিখ ভুল থাকে,
  • উচ্চতর গ্রেডের তথ্য না থাকে,
  • ৩০ জুনের মূল বেতন ভুল থাকে,

তাহলে সফটওয়্যার থেকে উৎপন্ন বেতন নির্ধারণেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

তাই শুধু নতুন বেতন কত হচ্ছে তা দেখার পরিবর্তে যে তথ্যের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ হয়েছে, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

‘চলমান’ ও ‘উচ্চতর গ্রেড’—দুটি বিষয় এক নয়

অনেক কর্মচারীর মধ্যে একটি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে যে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কারণে সবার জন্য একই ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ প্রযোজ্য হবে।

বাস্তবে iBAS++-এ বেতন নির্ধারণের ধরন আলাদা। সরকারি পোর্টালে উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্টসহ পৃথক অপশন রয়েছে।

ফলে কোনো কর্মচারীর যদি ১ জুলাই ২০২৬-এর পর উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হয়, সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিষয়

নতুন Pay Fixation নিয়ে আপাতত যে ১০টি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

১. জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর।

২. নতুন বেতন নির্ধারণে ৩০ জুন ২০২৬-এর বর্তমান বেতন গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

৩. নতুন বেতন একবারে শতভাগ কার্যকর হচ্ছে না।

৪. ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম–২০তম গ্রেডের বাস্তবায়ন হার আলাদা।

৫. ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।

৬. iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইন Pay Fixation করা হবে।

৭. NID/জন্মতারিখ/OTP বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে User ID-Password প্রয়োজন হতে পারে।

৮. পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের জন্য পৃথক বিষয়/প্রক্রিয়া রয়েছে।

৯. ১ জুলাই থেকে গেজেট জারির সময় পর্যন্ত বকেয়া পাওয়ার বিধান রয়েছে।

১০. বকেয়া নির্ধারণের সময় আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধা সমন্বয় হতে পারে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। নতুন বেতনস্কেল কাগজে কার্যকর হওয়ার পর সেটিকে ব্যক্তিভিত্তিক বেতনে রূপান্তরের মূল ধাপই হচ্ছে Pay Fixation।

আর সেই কাজকে ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করার জন্য iBAS++-এর অনলাইন ব্যবস্থাই এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। সরকারি iBAS++ পোর্টালে বেতন নির্ধারণের বিভিন্ন অপশন চালু রয়েছে এবং অর্থ বিভাগের নতুন বেতন আদেশে ২০২৬ সালের বেতন নির্ধারণের ভিত্তি ও বিধান নির্ধারিত হয়েছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অন্যের Pay Fixation দেখে নিজের বেতন নির্ধারণ করা যাবে না। প্রত্যেক কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও চাকরির ইতিহাস অনুযায়ী হিসাব আলাদা হতে পারে।

তাই নতুন বেতন পাওয়ার আগে কর্মচারীদের নিজেদের iBAS++ তথ্য, সার্ভিস রেকর্ড এবং ৩০ জুনের মূল বেতন মিলিয়ে দেখা জরুরি। এরপর হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত Pay Fixation সম্পন্ন হলে নতুন বেতন, বকেয়া এবং পরবর্তী আর্থিক সুবিধার হিসাব আরও স্পষ্ট হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পাইলট/ধাপে ধাপে অনলাইন Pay Fixation কার্যক্রমের যে সময়সূচি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। সরকারি iBAS++ পোর্টালের নির্দেশনাই চূড়ান্তভাবে অনুসরণযোগ্য।

ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *