জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন কার্যক্রম এখন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইনে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর থেকে পে-ফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পে-ফিকেশন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—কতগুলো ধাপে কাজ করতে হবে, নতুন করে কত তথ্য দিতে হবে, পুরোনো তথ্য কোথা থেকে আসবে, ভুল তথ্য থাকলে কী করতে হবে, নতুন বেতন কখন দেখা যাবে এবং Final Submit করার পর কোনো ভুল সংশোধন করা যাবে কি না।
প্রচারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, পুরো কাজটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। অধিকাংশ বিদ্যমান তথ্য সিস্টেমে পাওয়া যাওয়ার কারণে শুরু থেকে সব তথ্য নতুন করে টাইপ করার প্রয়োজন হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তথ্য যাচাই না করেই Submit করা যাবে। বরং পে-ফিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের চাকরির ইতিহাস, আগের বেতন নির্ধারণ এবং বর্তমান তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা।
পে-ফিকেশন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে। নতুন বেতন কত হবে এবং জুলাই থেকে প্রাপ্য বকেয়া বা এরিয়ার কত হবে—তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। কারণ এটি নির্ভর করবে বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড, পূর্বের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতনের ওপর।
অর্থাৎ শুধু নতুন গ্রেড জানলেই প্রত্যেকের বেতন বা বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে না। প্রত্যেক কর্মচারীর ব্যক্তিগত চাকরি ও বেতন-ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে iBAS++-এ নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।
মোট ৭ ধাপে পে-ফিকেশন করার তথ্য
প্রচারিত পে-ফিকেশন নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় মোট ৭টি ধাপ বা ট্যাব থাকবে। প্রতিটি ধাপে প্রবেশ করে সেখানে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পন্ন করার পর Save & Continue ব্যবহার করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—৭টি ধাপকে শুধু তথ্য পূরণের ধাপ হিসেবে দেখলে হবে না। প্রতিটি ধাপ মূলত নিজের চাকরির তথ্য ও সিস্টেমে থাকা তথ্য যাচাই করার একটি সুযোগ।
প্রথমে কীভাবে iBAS++-এ প্রবেশ করবেন?
পদমর্যাদা অনুযায়ী iBAS++-এ প্রবেশের পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।
গেজেটেড কর্মকর্তারা নিজস্ব User ID ও Password ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে OTP পাঠিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ই-মেইলেও OTP পাঠানোর ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।
যাদের NID নেই, তাদের পে-ফিকেশন শুরু করার আগে NID নিবন্ধনের বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে।
অধিকাংশ তথ্য কি নিজে টাইপ করতে হবে?
এটাই পে-ফিকেশন নিয়ে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মচারীর অনেক তথ্য আগেই সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে এবং সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। সাম্প্রতিক নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, পে-ফিকেশনের সময় ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে দিতে এবং আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই করতে হবে।
তাই প্রত্যেক কর্মচারীকে শুরু থেকে পুরো চাকরির তথ্য নতুন করে টাইপ করতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আসছে মানেই সেটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই—এমনটিও ধরে নেওয়া যাবে না। তাই প্রতিটি তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসা তথ্য ভুল হলে কী করবেন?
পে-ফিকেশনের সময় কোনো তথ্য সিস্টেমে ভুল বা অসম্পূর্ণ দেখা গেলে নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা নিতে হবে।
বিশেষ করে নাম, NID নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, পূর্বের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেডের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশোধন করতে হবে। সাম্প্রতিক নির্দেশনায়ও অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে চাকরির নথি ও পূর্বের বেতন-ইতিহাস মিলিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ পে-ফিকেশনের সময় বর্তমান বেতন ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
এ কারণে কর্মচারীদের উচিত পে-ফিকেশন করার আগে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের Basic Pay, সর্বশেষ Pay Fixation এবং পরবর্তী সময়ে কোনো পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে তার আদেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখা।
পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ
যাদের চাকরিজীবনে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়েছে, তাদের এসব তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে।
কারণ নতুন বেতন নির্ধারণ শুধু বর্তমান পদ ও বর্তমান মূল বেতনের ওপর নির্ভর করছে না; পূর্বের বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও বিবেচনায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ বা প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ ধাপে দেখা যাবে নতুন বেতনের ফলাফল
প্রচারিত পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ৬ষ্ঠ ধাপে পৌঁছালে নতুন বেতন নির্ধারণের ফলাফল দেখা যাবে।
অর্থাৎ কর্মচারীকে নিজে হাতে নতুন Basic হিসাব করে বসাতে হবে না। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর সিস্টেম নতুন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত মূল বেতন দেখাবে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার আগেই সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত নতুন মূল বেতন দেখার সুযোগ থাকবে।
এখানে কর্মচারীদের বিশেষ সতর্ক হতে হবে। নতুন Basic দেখা যাওয়ার পর সেটি নিজের বর্তমান Basic, গ্রেড ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের সঙ্গে যৌক্তিকভাবে মিলছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।
সপ্তম ধাপে পুরো ফিক্সেশনের চিত্র
৭ম ধাপে পে-ফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে দেখা যাবে বলে প্রচারিত নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পর্যায়টিকে Final Submit-এর আগের শেষ যাচাই হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এখানে নতুন বেতন, চাকরির তথ্য এবং ফিক্সেশনের অন্যান্য বিবরণ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
Final Submit-এর আগে সতর্কতা সবচেয়ে জরুরি
পে-ফিকেশনের ক্ষেত্রে Final Submit একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
Final Submit দেওয়ার আগে কর্মচারী নিজের দেওয়া তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করতে পারবেন। কিন্তু একবার Final Submit হয়ে গেলে নিজের পক্ষ থেকে তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ না থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে।
তাই তাড়াহুড়ো করে Submit না করে আগে—
নাম → NID → জন্মতারিখ → পদ → গ্রেড → যোগদানের তারিখ → ৩০ জুনের Basic → পূর্বের Pay Fixation → পদোন্নতি → উচ্চতর গ্রেড → কর্মস্থলের তথ্য → নতুন Basic
সবকিছু একবারে মিলিয়ে দেখা উচিত।
পেনশন ও সব কর্মস্থলের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পে-ফিকেশনের সময় শুধু বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য নয়, কর্মজীবনের পূর্ববর্তী তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রচারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম কর্মস্থল থেকে বর্তমান কর্মস্থল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চাকরির ইতিহাস এবং পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
বিশেষ করে যেসব কর্মচারী একাধিক দপ্তর, অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, তাদের আগের কর্মস্থল, বদলি, পদোন্নতি এবং বেতন নির্ধারণের ধারাবাহিকতা সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা উচিত।
Submit করার পর কী হবে?
পে-ফিকেশনের তথ্য Submit করার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পর্যায়ে যাবে। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তথ্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরির নথি ও পূর্বের বেতনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করবেন।
অর্থাৎ কর্মচারী অনলাইনে তথ্য Submit করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে না। অ্যাকাউন্টস অফিসের যাচাই ও অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তথ্য সঠিক থাকলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে বিশেষ Verification Number তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Report ও Verification Number সংরক্ষণ করুন
পে-ফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর Report অপশন থেকে ফিক্সেশন রিপোর্ট দেখা ও প্রিন্ট করা যাবে বলে প্রচারিত তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া Verification Number পাওয়া গেলে সেটিও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে পে-ফিকেশন যাচাই, অফিসের নথি সংরক্ষণ কিংবা কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।
অক্টোবরের বেতন ও বকেয়ার সঙ্গে পে-ফিকেশনের সম্পর্ক
নতুন বেতন নির্ধারণ শেষ হওয়ার পর নতুন Basic-এর ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সবার বকেয়া সমান হবে না; নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য এবং কার্যকর হওয়ার সময়ের ওপর এর পরিমাণ নির্ভর করবে।
বর্তমান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬-এর Basic-কে ভিত্তি ধরে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে। নতুন ও পুরোনো Basic-এর পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন Basic কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পে-ফিকেশনের আগে কর্মচারীদের কী প্রস্তুত রাখা উচিত?
পে-ফিকেশন শুরু করার আগে নিচের তথ্য ও নথিগুলো প্রস্তুত রাখলে কাজ সহজ হবে—
১. জাতীয় পরিচয়পত্র
২. জন্মতারিখ
৩. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর
৪. বর্তমান পদ ও গ্রেড
৫. চাকরিতে যোগদানের তারিখ
৬. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন
৭. সর্বশেষ Pay Fixation-এর তথ্য
৮. পদোন্নতির অফিস আদেশ
৯. বদলির প্রয়োজনীয় তথ্য
১০. টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেডের তথ্য
১১. পূর্ববর্তী কর্মস্থলের তথ্য
১২. প্রয়োজনীয় পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য
সবচেয়ে বড় ভুল হবে তাড়াহুড়ো করে Final Submit করা
iBAS++-এর পে-ফিকেশন ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রদর্শন, অনলাইন যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের ডিজিটাল অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য দেওয়া এবং সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা।
বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ চাকরির ইতিহাস রয়েছে, একাধিকবার পদোন্নতি হয়েছে কিংবা উচ্চতর গ্রেড/টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।
কারণ একটি ভুল তথ্য শুধু নতুন Basic-এর হিসাবেই নয়, পরবর্তী বেতন বিল ও বকেয়া হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে iBAS++-এর পে-ফিকেশন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রচারিত ৭ ধাপের প্রক্রিয়ায় কর্মচারীদের নতুন করে অপ্রয়োজনীয় তথ্যের বোঝা না দিয়ে ধাপে ধাপে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ তথ্য সিস্টেমে থাকা তথ্য থেকে পাওয়া গেলেও নিজের চাকরির ইতিহাস ও বেতন-সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় হলো—
প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬-এর Basic ও পূর্বের Pay Fixation সঠিকভাবে যাচাই করা।
দ্বিতীয়ত, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও কর্মস্থল পরিবর্তনের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা।
তৃতীয়ত, Final Submit-এর আগে পুরো ফিক্সেশন ফলাফল ভালোভাবে পরীক্ষা করা।
এরপর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হবে এবং Verification Number সংরক্ষণ করা যাবে। সরকারি অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটেও জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এবং iBAS++-এর বেতন নির্ধারণের লিংক রাখা হয়েছে।
সুতরাং পে-ফিকেশন নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে ধাপে ধাপে তথ্য যাচাই করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। ভুল তথ্য দেখা গেলে নিজে থেকে পরিবর্তনের চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

