সরকার বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন সংশোধনের মাধ্যমে অনলাইনে ফি প্রদান ও রেজিস্টারের সুযোগ দিল এবং নিবন্ধন ফর্মে পরিবর্তন আনয়ন করিল–আইন সংশোধনের ফলে কাবিননামা বা বিবাহ ও তালাকের তথ্য অনলাইনেই সংরক্ষিত থাকবে- অনলাইনে মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ২০২৬
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন কি? – বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এটি মূলত মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ দ্বারা পরিচালিত হয়। মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত বিবাহ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত করাই হলো বিবাহ নিবন্ধন। যিনি এই নিবন্ধন করেন তাকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী বলা হয়। নিবন্ধনের পর একটি সরকারি নথি বা কাবিননামা (নিকাহনামা) প্রদান করা হয়, যা বিবাহের আইনগত প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
রেজিস্টার ও ভলিউম সংরক্ষণ কি এখন অনলাইনে থাকবে? হ্যাঁ। নিকাহ রেজিস্ট্রারকে বিবাহ ও তালাকের জন্য আলাদা রেজিস্টার (ভলিউম বই) সংরক্ষণ করতে হবে। এই রেজিস্টারগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পূরণ ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কর্তৃপক্ষের নিকট এর কপি জমা দিতে হবে। বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের জন্য সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত হারে ফি আদায় করতে হবে। ফির হার সাধারণত বিধিমালায় উল্লেখ থাকে বা পরিপত্র দ্বারা জারি করা হয়। এই বিধিমালা বিবাহ ও তালাকের আইনগত প্রমাণ নিশ্চিত করে। নারীদের অধিকার, বিশেষ করে দেনমোহর ও ভরণপোষণ প্রাপ্তি সহজ করে। বাল্যবিবাহ রোধ এবং বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন কি এখন অনলাইনে করতে হবে? নিকাহ বা বিবাহ তথ্য এখন অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে। বিয়ে ও তালাক এখন অনলাইন এবং সরাসরি উভয় পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সুযোগ আছে। অনলাইন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ডিজিটাল মাধ্যমে বা সরকার নির্ধারিত যে কোনো পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে। নিবন্ধনের সময় ফরম ‘ঘ’-তে যাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন, তারা তা ডিজিটালি বা সরাসরি দিতে পারবেন। নিরক্ষর ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিপসই গ্রহণ করা হবে।
বিবাহ নিবন্ধন বয়স পূর্বের ন্যায় কার্যকর রয়েছে / জন্ম নিবন্ধন জাতীয় পরিচয়পত্র বা এমন কোন প্রমান লাগবে
তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া কি? যেকোনো প্রকারের তালাক (স্বামী কর্তৃক বা স্ত্রী কর্তৃক বা পারস্পরিক সম্মতিতে) কার্যকর হওয়ার পর তা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। তালাক প্রদানকারী ব্যক্তি তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান/মেয়রকে পাঠানোর পর বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তালাক নিবন্ধন করবেন। তালাক নিবন্ধনের জন্যও নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নিকাহ রেজিস্ট্রার একটি তালাক নিবন্ধন সনদ প্রদান করবেন।

Caption: Marriage Registration Full Act pdf file download
বিবাহ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ২০২৬ । এখন অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে
- মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর তা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ সম্পাদনের স্থানে নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে (কাবিননামা বা নিকাহনামা) বিবাহ নিবন্ধন করতে হবে।
- কাবিননামায় বর, কনে, সাক্ষী, অভিভাবক (প্রয়োজনে), দেনমোহরের পরিমাণ (উসুল/অ-উসুল) ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয়।
- নিবন্ধনের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি সাধারণত দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
- নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নিকাহ রেজিস্ট্রার একটি বিবাহ নিবন্ধন সনদ প্রদান করবেন।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৯ কি?
অবশ্যই! “মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৯” বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা। এটি মূলত ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনকে কার্যকর করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার প্রতিটি নির্দিষ্ট এলাকার (যেমন: ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা) জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ দেবে। নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা (সাধারণত ফাজিল পাস) এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং অপসারণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী এই বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
