আজকের খবর ২০২৬

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ : ৫২ ও ২৪-এর চেতনার প্রতিফলন নিশ্চিতের নির্দেশ

ঢাকা আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দিবসটি পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

৫২ ও ২৪-এর চেতনার সমন্বয় এবারের দিবস উদযাপনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে সাজসজ্জা ও পোস্টারের ক্ষেত্রে এই দুই ঐতিহাসিক আন্দোলনের চেতনাকে তুলে ধরতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে কর্মসূচি সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকেও সকল মাদ্রাসা প্রধান ও পরিচালনা কমিটিকে যথাযথভাবে দিবসটি পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতেও যেন দিবসটি পালিত হয়, তা তদারকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন দিবসটি উপলক্ষে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন, রচনা এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শহিদ মিনারে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম এবং দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার এবং বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ প্রচারণার ব্যবস্থা করা হবে।

দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫

পরিবর্তনটা কোথায়?

২০২৫ সালের শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে বিগত বছরগুলোর তুলনায় একটি বড় ধরনের নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মূল পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার অন্তর্ভুক্তি: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি হলো ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সাথে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের যোগসূত্র স্থাপন। দলিলের ২.২৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— সাজসজ্জা, পোস্টার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে “৫২ এর চেতনা ও ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের প্রতিফলন” থাকতে হবে। এটি আগে কখনো ছিল না।

২. জাতীয় স্লোগান ও প্রচারণায় পরিবর্তন: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রচারণায় আগে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রাধান্য পেত। এখনকার নির্দেশনায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যবিরোধী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

৩. মাদ্রাসার জন্য সুনির্দিষ্ট তদারকি: মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে জারিকৃত এই পত্রে (২.২ ও ২.২৩ সিদ্ধান্ত) মাদ্রাসাসমূহে দিবসটি পালনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সকল বেসরকারি মাদ্রাসা যেন যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে, তা বিশেষভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অনুষ্ঠানের সমন্বয়: এবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সাথে সংগতি রেখে তৃণমূল পর্যায়ে (ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত) অনুষ্ঠান আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে সরাসরি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি চ্যানেল এবং প্রিন্ট মিডিয়াকে জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলনের নিয়ম নিয়ে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এবারের উদযাপনের মূল পরিবর্তনটি হলো “৫২-এর ভাষা আন্দোলন” এবং “২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান”—এই দুই ঐতিহাসিক মাইলফলককে একই সুতোয় গেঁথে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *