ব্যাংকিং কার্যক্রম

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন চার্জ ও আবগারি শুল্ক: যা আপনার জানা প্রয়োজন

বছর শেষে অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু টাকা কেটে নেওয়া হয়। এই কর্তনগুলো মূলত তিনটি প্রধান খাতে হয়ে থাকে: অ্যাকাউন্ট মেইনটেনেন্স ফি, এসএমএস অ্যালার্ট চার্জ এবং সরকারি আবগারি শুল্ক।

১. অ্যাকাউন্ট মেইনটেনেন্স ফি (Account Maintenance Fee)

অধিকাংশ ব্যাংক বছরে দুইবার এই ফি কেটে থাকে। তবে কোনো কোনো ব্যাংক বছরে একবারও এটি কাটতে পারে। অগ্রণী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ফির হার অ্যাকাউন্টের গড় স্থিতির ওপর নির্ভর করে:

  • ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত গড় আমানত থাকলে কোনো ফি নেই।

  • ১০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত স্থিতিতে ১০০ টাকা।

  • ২৫,০০০ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২০০ টাকা।

  • ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫০ টাকা।

  • ১০ লক্ষ টাকার ওপরে হলে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ কর্তন করা হয়।

২. এসএমএস অ্যালার্ট সার্ভিস চার্জ

মোবাইলে লেনদেনের তথ্য বা মেসেজ পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলো বাৎসরিক একটি চার্জ কেটে থাকে। অগ্রণী ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই চার্জ জমার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা (+১৫% ভ্যাট) পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেক ব্যাংক ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ফিক্সড চার্জও কেটে থাকে।

৩. আবগারি শুল্ক (Excise Duty): এটি আসলে কী?

আবগারি শুল্ক কোনো ব্যাংক পায় না, এটি সরাসরি সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) পায়। আপনার অ্যাকাউন্টে বছরের যেকোনো সময় (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) টাকা জমার পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে ব্যাংক এই টাকা কেটে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়। শুধু সেভিংস বা চলতি অ্যাকাউন্ট নয়, এফডিআর (FDR), ডিপিএস (DPS) বা লোনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

আবগারি শুল্কের হার:

  • ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স থাকলে: ০ টাকা (কোনো শুল্ক নেই)।

  • ১ লক্ষ ১ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: ১৫০ টাকা

  • ৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: ৫০০ টাকা

  • ১০ লক্ষ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা

  • ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ১৫,০০০ টাকা

  • ৫ কোটি টাকার ওপরে: ৫০,০০০ টাকা

কিভাবে আবগারি শুল্ক বা চার্জ কমানো সম্ভব?

আপনার কষ্টার্জিত টাকা কিছুটা সাশ্রয় করতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

  • একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার: বড় অঙ্কের টাকা একটি অ্যাকাউন্টে না রেখে একাধিক ব্যাংকে বা একই ব্যাংকের একাধিক অ্যাকাউন্টে ভাগ করে রাখতে পারেন। এতে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্সের সীমা ১ লক্ষ বা ৫ লক্ষ টাকার নিচে থাকলে শুল্ক কম আসবে।

  • ডিপোজিট ভেঙ্গে করা: ৫ লক্ষ বা ১০ লক্ষ টাকার একটি বড় এফডিআর না করে ১ লক্ষ বা ২ লক্ষ টাকার কয়েকটি আলাদা স্কিম করতে পারেন। এতে বছর শেষে গড় স্থিতির হিসেবে আপনি সুবিধা পেতে পারেন।

  • অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা: অনেক সময় আমরা প্রয়োজন ছাড়াই একাধিক অ্যাকাউন্ট ফেলে রাখি, যেগুলোতে মেইনটেনেন্স ফি ও ভ্যাট কাটতে থাকে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আবগারি শুল্ক কত টাকা কাটে?

ব্যাংক একাউন্ট বা আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কর্তনের হার আমানতের স্থিতি বা ব্যালেন্সের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত বছরে একবার (৩১ ডিসেম্বর) বা একাউন্ট বন্ধ করার সময় এই শুল্ক কাটা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত আবগারি শুল্কের হার নিচে দেওয়া হলো:

  • ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: কোন আবগারি শুল্ক কাটা হয় না (০ টাকা)।

  • ১ লক্ষ ১ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: ১৫০ টাকা।

  • ৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: ৫০০ টাকা।

  • ১০ লক্ষ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা।

  • ১ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ১৫,০০০ টাকা।

  • ৫ কোটি টাকার উপরে: ৫০,০০০ টাকা।

মনে রাখা জরুরি: ১. এই শুল্ক আপনার একাউন্টে বছরের যেকোনো সময়ে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে) সর্বোচ্চ যে স্থিতি (Highest Balance) ছিল, তার ওপর ভিত্তি করে কাটা হয়। ২. সঞ্চয়ী, চলতি, এসএনডি (SND) একাউন্ট ছাড়াও এফডিআর (FDR) এবং ডিপিএস (DPS) এর ক্ষেত্রেও একই হারে শুল্ক প্রযোজ্য। ৩. ব্যাংক এই টাকা কেটে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেয়, এটি ব্যাংকের নিজস্ব কোনো আয় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *