আজকের খবর ২০২৬

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন: ধর্মীয় বিধান ও আধুনিক সংস্কারের সমন্বয়

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বন্টনের প্রক্রিয়াটি ‘মুসলিম উত্তরাধিকার আইন’ বা ‘ফারায়েজ’ নামে পরিচিত মুসলমানদের এই ব্যক্তিগত আইনটি মূলত পবিত্র কোরআন, হাদিস, ইজমা এবং কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান বাংলাদেশে এই ধর্মীয় বিধানের পাশাপাশি ১৯৩৭ সালের শরিয়াহ আইন এবং ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সম্পত্তি বন্টন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়

উত্তরাধিকার আইনের প্রধান উৎসসমূহ: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের প্রথম ও প্রধান উৎস হলো আল-কোরআন বিশেষ করে সূরা নিসায় উত্তরাধিকারীদের নির্দিষ্ট অংশের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ বা হাদিস, মুসলিম আইনবিদদের ঐক্যমত্য (ইজমা) এবং যুক্তিনির্ভর সাদৃশ্য (কিয়াস) এই আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ

সম্পত্তির অংশীদার ও বন্টন নীতি: মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারীদের প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: ১. অংশীদার (Sharers): কোরআন নির্ধারিত নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী ১২ জন ব্যক্তি, যার মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী পিতা, স্বামী, মাতা, কন্যা এবং স্ত্রী—এই পাঁচজন কখনোই উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হন না । ২. অবশিষ্টাংশভোগী (Residuaries): অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার পর যদি কোনো সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে, তবে তারা তা লাভ করেন

১৯৬১ সালের উল্লেখযোগ্য সংস্কার: মূল হানাফী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির জীবিত থাকাকালীন তার কোনো পুত্র বা কন্যা মারা গেলে, ওই মৃত সন্তানের সন্তানরা (দাদা/নানার সম্পত্তিতে) উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন তবে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা অনুযায়ী এই নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বর্তমানে মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা তাদের বাবা বা মা বেঁচে থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেতেন, ঠিক সেই পরিমাণ অংশ লাভ করেন

পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য এই আইনটি শুধু একটি ধর্মীয় বিধি নয়, বরং একটি বিধিবদ্ধ আইনি কাঠামো উত্তরাধিকারের পাশাপাশি বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও এই আইনের অধীনে পরিচালিত হয় । বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই আইন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট অনেক জটিলতা ও বিরোধ এড়ানো সম্ভব।

তথ্য সোর্স দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *