দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আর্থিক অনুদানের আবেদন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই অনুদান প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসা, কারিগরি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
সূচীপত্র
আবেদনের মূল তথ্যাবলি
এই অনুদান কোনো নিয়মিত বৃত্তি নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা। আবেদনের প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
অনুদানের পরিমাণ: জনপ্রতি ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা।
আবেদনের যোগ্যতা: ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক (অনার্স), ডিগ্রি ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থী।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সাধারণ স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং সকল পাবলিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের মাধ্যম: অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্তাবলী
১. ছবি: আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি। ২. সনদ ও প্রত্যয়ন: মেধাবী ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরসহ অধ্যয়ন প্রত্যয়নপত্র এবং বিগত পরীক্ষার মার্কশিট প্রয়োজন। ৩. বিশেষ ক্যাটাগরি: প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রদত্ত প্রতিবন্ধী সনদ ও এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি বাধ্যতামূলক। ৪. সত্যায়ন: এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এবং ছবি অবশ্যই গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে। ৫. অফিসার স্বাক্ষর: দুস্থ ও অসহায় ক্যাটাগরির ফরমের ক্ষেত্রে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের স্বাক্ষর নেওয়া শ্রেয়।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পেমেন্ট পদ্ধতি
আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা ভালো। তবে বর্তমানে অ্যাকাউন্ট না থাকলেও আবেদন করা যাবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে চেকের মাধ্যমে টাকা প্রদান করা হয়, যা পরবর্তীতে নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে উত্তোলন করতে হবে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) অপশনটি সার্ভারে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও সময়সীমা
সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে পূরণ করে ফরমের উপরে উল্লেখিত ঠিকানায় ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্টরা ১০ টাকার ডাকটিকিট ব্যবহার করে ডাকযোগে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
আবেদনের শেষ সময়: চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আবেদনপত্র পৌঁছাতে হবে।
অনুদানের সময়কাল: সাধারণত পরবর্তী বছরের জুলাই মাসের দিকে বা এর কাছাকাছি সময়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে কল দিয়ে চেক বা টাকা সংগ্রহের জন্য জানানো হয়।
সতর্কতা: আবেদন ফরম ডাউনলোড করার পর তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ভুল তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।

সব শিক্ষার্থী কি এ সুবিধা পাবেন?
জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের এই অনুদানটি ‘উন্মুক্ত’ হলেও বাস্তবিকভাবে সব শিক্ষার্থী একসাথে এই সুবিধা পাবেন না। আবেদন করার সুযোগ সবার থাকলেও, বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় বিবেচনা করা হয়।
নিচে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলো:
১. বাছাই প্রক্রিয়া (Priority List)
পরিষদ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ পায়। যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দের চেয়ে বেশি হয় (যা সাধারণত হয়), তবে নিচের ক্যাটাগরিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়:
অসচ্ছল ও দুস্থ শিক্ষার্থী: যাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ।
মেধাবী শিক্ষার্থী: যাদের রেজাল্ট ভালো কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী: শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন শিক্ষার্থী।
এতিম বা অসহায় শিক্ষার্থী: যাদের অভিভাবক নেই বা অত্যন্ত সংকটে আছেন।
২. যারা আবেদন করতে পারবেন (Eligibility)
যোগ্যতার দিক থেকে নিচের সবাই আবেদন করতে পারবেন, কিন্তু চূড়ান্ত নির্বাচন নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তার ওপর:
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি।
কলেজ (একাদশ-দ্বাদশ), মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থী।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
৩. কেন সবাই পাবেন না?
এটি কোনো সরকারি ‘জেনারেল স্কলারশিপ’ নয় যে নির্দিষ্ট জিপিএ থাকলেই সবাই পাবেন। এটি একটি ‘আর্থিক অনুদান’। তাই আপনার ফরমে এবং প্রত্যয়ন পত্রে যদি প্রমাণিত হয় যে আপনি আর্থিক সহায়তার যোগ্য, তবেই আপনার নাম তালিকায় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
যাদের আবেদনের ফরমটি সঠিক হবে না বা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর (অধ্যক্ষ বা সমাজসেবা অফিসারের) থাকবে না, তারা শুরুতেই বাছাই থেকে বাদ পড়ে যাবেন। তাই নিয়ম মেনে আবেদন করা জরুরি।
পরামর্শ: আপনি যদি মনে করেন আপনি আর্থিক সহায়তার যোগ্য, তবে অবশ্যই আবেদন করবেন। আবেদন করার সময় আপনার পড়াশোনার খরচ বা পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি (যদি ফরমে কোনো বর্ণনা দেওয়ার জায়গা থাকে বা প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ থাকে) গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবেন।
