৩০ মে, ২০১৯ জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ জারির পর ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের পেনশন ও চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার স্থায়ী সমাধান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পেনশন বৃদ্ধির নতুন নিয়ম
পরিপত্রে বলা হয়েছে, মাসিক নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের বয়স যেদিন থেকে ৬৫ বছর ১ দিন পূর্ণ হবে, সেদিন থেকেই তারা বর্ধিত পেনশনের সুবিধা পাবেন।
সরাসরি ৫০% বৃদ্ধি: যে তারিখে বয়স ৬৫ বছর ১ দিন পূর্ণ হবে, সেই তারিখ থেকে ৩০-০৬-২০১৫ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের ভিত্তিতে তাদের পেনশন ৫০% বৃদ্ধি পাবে।
ধাপে ধাপে বৃদ্ধি: যাদের বয়স ০১-০৭-২০১৫ তারিখে ৬৫ বছরের কম ছিল, তারা প্রথমে ৩০-০৬-২০১৫ তারিখের নিট পেনশনের ওপর ৪০% বৃদ্ধি পেয়ে আসছিলেন। এখন তাদের বয়স ৬৫ বছর ১ দিন পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে অবশিষ্ট ১০% বৃদ্ধি (অর্থাৎ মোট ৫০%) কার্যকর হবে।
চিকিৎসা ভাতার হার নির্ধারণ
দীর্ঘদিন ধরে পেনশনারদের দাবির প্রেক্ষিতে চিকিৎসা ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী:
৬৫ বছর ১ দিন পূর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে পেনশনারগণ মাসিক ২,৫০০/- (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা হারে চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্য হবেন।
iBAS++ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একই বছরে পেনশনারগণ ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান এবং আবার ওই একই বছরেই তাদের বয়স ৬৫ পার হয়। এই ক্ষেত্রে যেন কারিগরি জটিলতায় তারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য অনলাইন সিস্টেম বা iBAS++-এ প্রয়োজনীয় অপশন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একই বছরে ইনক্রিমেন্ট এবং বয়সজনিত কারণে ১০% অতিরিক্ত বৃদ্ধি—উভয় সুবিধাই কার্যকর করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের তৎপরতা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আছমা আরা বেগম স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি ইতোমধ্যেই হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, সকল মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসে এই অনুলিপি পৌঁছে দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক লক্ষ প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন এবং দীর্ঘদিনের পাওনা ও হিসাব সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

