ই নামজারি ও ভূমি কর

ঘরে বসেই জমির খাজনা: লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি পোহাতে হবে না আর

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমি সেবায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন থেকে জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের জন্য আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই নাগরিকরা তাদের জমির খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন। বাংলাদেশ সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সময় সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত অর্থের লেনদেন বন্ধ হয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।

যেভাবে সম্পন্ন করবেন অনলাইন নিবন্ধন: অনলাইনে খাজনা দেওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিবন্ধন। এ জন্য নাগরিককে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট পোর্টালে (www.ldtax.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের সচল মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। একবার নিবন্ধন হয়ে গেলে ব্যবহারকারী তার এনআইডি এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে যেকোনো সময় সিস্টেমে লগইন করতে পারবেন।

খাজনা পরিশোধের সহজ ধাপসমূহ: লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘খতিয়ান’ অপশনে গিয়ে জমির অবস্থান (বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা) ও খতিয়ান নম্বর ইনপুট করতে হবে। তথ্য প্রদানের পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই খতিয়ানের বিপরীতে কত টাকা বকেয়া রয়েছে তা স্ক্রিনে প্রদর্শন করবে। তথ্য যাচাই করে সঠিক থাকলে ‘পেমেন্ট করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ও বৈধ রসিদ: খাজনার টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। নাগরিকরা তাদের সুবিধামতো বিকাশ, রকেট, নগদ বা যেকোনো অনলাইন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জমা দিতে পারবেন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে একটি কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল ‘দাখিলা’ বা রসিদ পাওয়া যাবে। এই ডিজিটাল রসিদটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যাবে, যা আইনিভাবে সম্পূর্ণ বৈধ এবং সর্বজনগৃহীত।

ডিজিটাল ভূমি সেবার সুবিধা: ১. সময় ও অর্থ সাশ্রয়: অফিসে যাওয়ার যাতায়াত খরচ ও সময় বাঁচে। ২. স্বচ্ছতা: পরিশোধিত অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ থাকে না। ৩. বকেয়া পরিশোধ: সিস্টেমের মাধ্যমে আগের যেকোনো বছরের বকেয়া খাজনাও একসাথে পরিশোধ করা যায়। ৪. নিরাপত্তা: ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষিত থাকে বলে হারানো বা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি জনবান্ধব করতে এই অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। জমির মালিকরা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাই আপনার জমির সম্পদকে নিরাপদ রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে বকেয়া খাজনা আজই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *