সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর এবং সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও নেতিবাচক পোস্ট করছেন, যা সরকারি চাকরির বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নির্দেশনার প্রেক্ষাপট: মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কতিপয় শিক্ষক ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার বা মন্তব্য করার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
আইনি বাধ্যবাধকতা: মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯” সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশিকা অমান্য করা ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ে পড়বে এবং এর জন্য কঠোর বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ: মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে সকল শিক্ষক বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন, তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের দপ্তরেও বিষয়টি সদয় জ্ঞাতার্থে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনার ফলে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরও জোরালো হবে। যারা ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
