আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় গণভোট। এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপসহ মোট চারটি আধুনিক পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটাররা যেন সহজেই তাদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ম্যাপ এবং ভোটার নম্বর জানতে পারেন, সেজন্য প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
১. ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ
প্রযুক্তিনির্ভর এই অ্যাপটি গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
ভোটার তথ্য: এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর ও ক্রমিক জানা যাবে।
কেন্দ্রের অবস্থান: ভোটকেন্দ্রের নাম, ছবি এবং গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব ও যাওয়ার পথ দেখা যাবে।
প্রার্থী ও দলের তথ্য: নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের হলফনামাসহ বিস্তারিত তথ্য মিলবে এখানে।
ফলাফল: নির্বাচনের দিন রিয়েল-টাইম ভোটের হার এবং পরবর্তীতে ফলাফলও এই অ্যাপে দেখা যাবে।
২. হটলাইন নম্বর ১০৫
যাঁদের স্মার্টফোন নেই বা ইন্টারনেটে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা যেকোনো ফোন থেকে সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে তথ্য নিতে পারবেন।
সময়সীমা: প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত।
পদ্ধতি: কল করে ৯ চাপলে সরাসরি অপারেটরের সাথে কথা বলে এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে কেন্দ্রের নাম ও ভোটার নম্বর সংগ্রহ করা যাবে।
৩. এসএমএস (SMS) সেবা
খুব সহজেই একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে তথ্য পেতে ভোটাররা মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখবেন:
PC<স্পেস>NID Numberএবং পাঠিয়ে দেবেন ১০৫ নম্বরে। ফিরতি বার্তায় ভোটারের নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।
৪. ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট ecs.gov.bd থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে। এখানে দুটি উপায়ে অনুসন্ধান সম্ভব:
এনআইডি ভিত্তিক: এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য।
এলাকা ভিত্তিক: নির্বাচনি এলাকা বা উপজেলা নির্বাচন করে পুরো এলাকার কেন্দ্র তালিকা দেখার সুবিধা।
এক নজরে নির্বাচনী পরিসংখ্যান:
ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ (প্রায়)
মোট কেন্দ্র: ৪২,৭৭৯টি
আসন সংখ্যা: ২৯৯ (১টি স্থগিত)
ভোটের সময়: সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই ডিজিটাল পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের ফলে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ লাইন ধরে তথ্য খোঁজার ঝামেলা পোহাতে হবে না এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
