দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত না হওয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া কর্মচারীরা এখন সর্বোচ্চ দুই ধাপে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংকট ও দাবি সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়লেও সরকারি বেতন কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২,২০০ টাকা ছাড়ানো এবং বিদ্যুৎ, পানি ও বাড়ি ভাড়ার অতিরিক্ত চাপে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে তারা ব্যাংক ঋণ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়।
বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক সরকারের পক্ষ থেকে ৩ ধাপে ৩ বছরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে সরকারি কর্মচারীরা এই ‘দীর্ঘসূত্রিতা’র পরিকল্পনায় ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ৩ বছর সময় নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে এর সুফল সাধারণ কর্মচারীরা পাবেন না। বরং অসাধু ব্যবসায়ীরা পে-স্কেলের অজুহাতে কয়েক দফায় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে, যা হিতে বিপরীত হবে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর চিত্র জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ৯ম পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে:
সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড): ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ (প্রায় ১৪২% বৃদ্ধি)।
সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড): ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার চাচ্ছে অর্থনীতির চাপ কমাতে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে। তবে কর্মচারীদের দাবি—প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে সকল ভাতা কার্যকর করে দুই বছরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের ২২ লাখ সরকারি পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
