বাংলাদেশ সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’, ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫’-এর দাখিলকৃত প্রতিবেদনসমূহ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কমিটির গঠন: মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন: ১. প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ২. সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৩. প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। ৪. সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ৫. সচিব, অর্থ বিভাগ। ৬. সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ। ৭. সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ৮. সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। ৯. হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)।
কমিটির কার্যপরিধি: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি তিনটি পৃথক কমিশনের (জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি) দাখিলকৃত প্রতিবেদন ও সুপারিশসমূহ গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে কমিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সরকারের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ সম্বলিত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
সচিবালয় ও অন্যান্য সহায়তা: অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো: হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাস করার লক্ষ্যেই এই কমিটি কাজ করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আগামীতে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
