পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার নিতে অনলাইনে আবেদন যেভাবে, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংযোগ পাওয়ার সম্পূর্ণ নিয়ম
নিজের বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাইলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে নতুন সংযোগের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ফি পরিশোধ এবং পরবর্তী কার্যক্রম নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হয়। তবে আবেদন করার আগে জানতে হবে কোন কোন তথ্য দিতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত টাকা ফি দিতে হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার পর কীভাবে সংযোগ পাওয়া যাবে।
পল্লী বিদ্যুৎ নতুন মিটার আবেদন গাইড
পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার সংযোগ নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় আবেদনকারী নিজের তথ্য, সংযোগস্থলের ঠিকানা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন, প্রয়োজনীয় লোড এবং অন্যান্য তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর ড্যাশবোর্ড, এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানার সুযোগ রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটারের জন্য অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম ধাপ: অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ
প্রথমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন বিদ্যুৎ সংযোগের অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর নতুন সংযোগের আবেদন ফরম খুলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও অফিস নির্বাচন করতে হবে।
আবেদন ফরমে সাধারণত যেসব তথ্য দিতে হয়:
-
আবেদনকারীর পূর্ণ নাম ও জন্মতারিখ।
-
পিতা ও মাতার নাম।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর।
-
মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।
-
বিদ্যুৎ সংযোগস্থলের পূর্ণ ঠিকানা।
-
জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম বা মৌজার নাম।
-
জমির দাগ নম্বর ও মালিকানার বিবরণ।
-
বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন ও প্রয়োজনীয় লোড।
দ্বিতীয় ধাপ: বিদ্যুৎ ব্যবহারের লোড নির্ধারণ
নতুন মিটার আবেদনের ক্ষেত্রে কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে, সেটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে কতটি ফ্যান, লাইট, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে, তার বিবরণ দিতে হয়।
যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও ক্ষমতা অনুযায়ী সম্ভাব্য ডিমান্ড লোড কিলোওয়াটে হিসাব করা যায়।
এ ছাড়া বিদ্যুতের সার্ভিস পোল থেকে সংযোগস্থলের দূরত্ব উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট গাইড অনুযায়ী, সার্ভিস পোল থেকে সংযোগস্থলের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৩০ ফুটের মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি পাশের কোনো বিদ্যুৎ গ্রাহকের বই নম্বর ও হিসাব নম্বর চাওয়া হতে পারে।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড
আবেদন ফরম পূরণের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সংশ্লিষ্ট গাইডে প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার ৩০০ কিলোবাইট উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত প্রয়োজন হবে আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন এবং জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র।
সব তথ্য যাচাই করে শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হবে। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে আবেদনটি ড্রাফট হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে।
চতুর্থ ধাপ: লগইন করে আবেদন চূড়ান্ত করা
ড্রাফট সংরক্ষণের পর প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইন ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে হবে।
সেখানে বিদ্যুতের ওয়্যারিং সম্পন্ন হয়েছে কি না, গ্রাউন্ডিং রডের মেমো নম্বর, প্রয়োজনীয় সংযুক্তি এবং সংযোগস্থলের অবস্থানসংক্রান্ত মন্তব্য দিতে হবে।
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে আবেদনটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট করতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন ফি পরিশোধ
আবেদন সাবমিট করার পর নির্ধারিত বিল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টার অথবা রকেটের মাধ্যমে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে বলে গাইডে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদন ফি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয় না।
ষষ্ঠ ধাপ: ডিমান্ড নোট সংগ্রহ ও টাকা জমা
আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগের অনুমোদন দিলে আবেদনকারীর ড্যাশবোর্ড ও ই-মেইলে ডিমান্ড নোট পাঠানো হয়।
ডিমান্ড নোটে উল্লেখিত টাকা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থের মধ্যে সদস্য ফি ও গ্রাহক জামানতের মতো খাত থাকতে পারে।
সপ্তম ধাপ: সিএমও ইস্যু ও মিটার স্থাপন
আবেদন অনুমোদন এবং ডিমান্ড নোটের টাকা জমা সম্পন্ন হলে সিএমও ইস্যু করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শেষে মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
মিটার স্থাপনের পর গ্রাহকের হিসাব নম্বর এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।
নতুন মিটার নিতে কত টাকা খরচ হবে?
পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে আবেদন ফি এবং অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করতে হয়।
প্রদত্ত গাইডের নমুনা হিসাব অনুযায়ী:
| খরচের খাত | টাকার পরিমাণ |
|---|---|
| আবেদন ফি | ১১৫ টাকা |
| সদস্য ফি (নমুনা) | ৫০ টাকা |
| গ্রাহক জামানত (নমুনা) | ৮০০ টাকা |
| ডিমান্ড নোটের মোট (নমুনা) | ৮৫০ টাকা |
এখানে উল্লেখিত ৮৫০ টাকা হলো ২ কিলোওয়াট এলটি-এ সংযোগের একটি নমুনা হিসাব। এটি সব আবেদনকারীর জন্য নির্ধারিত বা চূড়ান্ত ফি নয়।
বাস্তবে নতুন সংযোগের খরচ নির্ভর করতে পারে অনুমোদিত লোড, ট্যারিফ ক্যাটাগরি, সংযোগের দূরত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়মের ওপর। তাই আবেদনকারীকে অবশ্যই নিজের নামে ইস্যু করা ডিমান্ড নোট অনুসারে টাকা জমা দিতে হবে।
আবাসিক নতুন মিটারের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
বাড়ি বা ফ্ল্যাটে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে আবেদনকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রয়োজন হবে।
প্রদত্ত গাইডে বিদ্যুৎ বিভাগের ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী আবাসিক সংযোগের জন্য যেসব কাগজপত্র উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো:
1. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।
2. জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি।
3. জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল অথবা লিজ ডিড।
4. জমির খতিয়ান বা মালিকানার প্রমাণপত্র।
5. আবেদনকারী নিজে জমির মালিক না হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা মালিকের অনাপত্তিপত্র।
6. জমির মালিক মারা গেলে উত্তরাধিকার সনদ এবং অন্যান্য ওয়ারিশের অনাপত্তিপত্র।
7. ডেভেলপারের ভবন হলে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তিপত্র অথবা যৌথ মালিকানাসংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র।
8. প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লোডের বিবরণ।
9. ১০ তলার বেশি বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ সনদ বা সাময়িক সনদ।
10. ইমারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিল্ডিং কোড অনুযায়ী রুফটপ সোলার স্থাপনের প্রমাণক।
তবে একই নামে, একই শ্রেণি ও একই স্থাপনায় নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে গাইড অনুযায়ী কিছু কাগজপত্র পুনরায় জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সর্বশেষ পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের কপি বা গ্রাহক নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।
আবাসিক ছাড়াও যেসব সংযোগে আবেদন করা যায়
পল্লী বিদ্যুতের অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় শুধু বাড়ির জন্য নয়, বিভিন্ন শ্রেণির সংযোগের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
| সংযোগের ধরন | ট্যারিফ ক্যাটাগরি |
|---|---|
| আবাসিক | এলটি-এ |
| সেচ | এলটি-বি |
| শিল্প | এলটি-সি১ |
| নির্মাণ | এলটি-সি২ |
| শিক্ষা, ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান | এলটি-ডি১ |
| বাণিজ্যিক ও ব্যাটারি চার্জিং | এলটি-ই/ডি৩ |
| অস্থায়ী সংযোগ | এলটি-টি |
| মধ্যম ও উচ্চ চাপ | MT/HT |
সেচ সংযোগ: সেচের জন্য ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় লোড এবং সেচ কমিটির অনুমোদনপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
শিল্প সংযোগ: ট্রেড লাইসেন্স, লোডের বিবরণ, রুফটপ সোলার বা নেট মিটারিংসংক্রান্ত অনুমোদনপত্রসহ অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
বাণিজ্যিক সংযোগ: দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাটারি চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোডের বিবরণ দিতে হবে। ভাড়াটিয়া হলে নিবন্ধিত ভাড়ার চুক্তিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
মধ্যম ও উচ্চ চাপের সংযোগ: এ ধরনের সংযোগের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের সার্টিফিকেট, ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারের স্পেসিফিকেশন, সাবস্টেশন নকশা এবং সিঙ্গেল লাইন ডায়াগ্রামের মতো অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন মিটার পেতে কত দিন সময় লাগে?
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে নির্দিষ্ট সময় আবেদনকারীর তথ্য, কাগজপত্র, ওয়্যারিংয়ের অবস্থা, পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।
প্রদত্ত গাইডে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সঠিক আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রায় ৩০ দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটিকে সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
আবেদনে কোনো ভুল থাকলে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ হলে কিংবা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিতে দেরি হলে সংযোগ পেতে বেশি সময় লাগতে পারে।
নতুন মিটারের আবেদন কোন অবস্থায় রয়েছে, জানবেন যেভাবে
অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনকারীকে বারবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হবে না। ড্যাশবোর্ডে লগইন করে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখা যায়।
সাধারণত যেসব বিষয় ট্র্যাক করা যায়:
-
আবেদন ফি জমা হয়েছে কি না।
-
ওয়্যারিং পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে কি না।
-
ওয়্যারিং প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না।
-
ডিমান্ড নোট ইস্যু হয়েছে কি না।
-
ডিমান্ড নোটের টাকা জমা হয়েছে কি না।
-
সিএমও ইস্যু হয়েছে কি না।
-
সংযোগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে কি না।
এ ছাড়া আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে প্রয়োজনীয় আপডেট পাঠানো হয়।
নতুন বিদ্যুৎ মিটারের বিল কীভাবে হিসাব করা হয়?
নতুন মিটার স্থাপনের পর প্রতি মাসে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিট অনুযায়ী বিল তৈরি হয়। সাধারণভাবে বিল নির্ধারণে ব্যবহৃত ইউনিট, অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে ডিমান্ড চার্জ এবং প্রযোজ্য ভ্যাট বিবেচনা করা হয়।
গাইডে দেওয়া হিসাবের সূত্র হলো:
মাসিক বিল = (ব্যবহৃত ইউনিট × প্রযোজ্য স্ল্যাব রেট) + ডিমান্ড চার্জ + ৫% ভ্যাট।
এখানে উল্লেখিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ইউনিটপ্রতি মূল্য গাইডের নমুনা হিসাবের অংশ। প্রকৃত বিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর সরকারি নির্দেশনা ও প্রযোজ্য হার অনুসরণ করতে হবে।
আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন স্ল্যাবে ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারিত হয়। ফলে ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতর স্ল্যাবের ইউনিটপ্রতি মূল্য প্রযোজ্য হতে পারে।
মিটার রিডিং নিজে যাচাই করবেন যেভাবে
বিদ্যুৎ বিল সঠিক হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য গ্রাহক নিজেই মিটারের রিডিং পরীক্ষা করতে পারেন।
প্রথমে মিটারের ডিসপ্লেতে kWh লেখা মোট রিডিং দেখতে হবে। এরপর আগের মাসের রিডিং থেকে বর্তমান মাসের রিডিংয়ের পার্থক্য বের করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, আগের মাসের রিডিং ১২০০ ইউনিট এবং বর্তমান মাসের রিডিং ১৩৫০ ইউনিট হলে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ হবে ১৫০ ইউনিট।
তবে সিটি বা সিটি-পিটি মিটারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী মিটার গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার প্রয়োগ করতে হয়।
বিলের রিডিংয়ের সঙ্গে মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ে পার্থক্য দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটারের আবেদন করার অফিসিয়াল লিংক
নতুন সংযোগের আবেদন করার আগে সঠিক ওয়েবসাইট নির্বাচন করা জরুরি। পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সংযোগ আবেদন পোর্টাল আলাদা।
প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটগুলো হলো:
-
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড: reb.gov.bd
-
পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ আবেদন: অনলাইন আবেদন পোর্টাল
-
বিপিডিবির নতুন সংযোগ: BPDB New Connection
-
বিদ্যুৎ বিভাগ: powerdivision.gov.bd
-
শিল্প সংযোগের জন্য বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস: BIDA One Stop Service
উল্লেখ্য, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকার বাইরে বিপিডিবির আওতাধীন এলাকায় নতুন সংযোগের জন্য বিপিডিবির নির্ধারিত পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।
আবেদন করার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
নতুন মিটারের আবেদন করার সময় কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
1. নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।
2. জমির মালিকানা ও সংযোগস্থলের ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
3. প্রয়োজনীয় লোড বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে।
4. ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিংয়ের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
5. আবেদন ফি ও ডিমান্ড নোটের টাকা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে।
6. কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে দ্রুত সংযোগ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
7. অনলাইন আবেদনের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে।
8. কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
শেষ কথা
পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার সংযোগ নেওয়ার জন্য অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালু থাকায় গ্রাহকদের আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। তবে আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা, ওয়্যারিং সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে আবেদন ফি, ডিমান্ড নোটের টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংযোগের সময়সীমা সম্পর্কে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ সংযোগের ধরন ও স্থানীয় সমিতির নিয়ম অনুযায়ী কিছু শর্ত ও খরচে পার্থক্য থাকতে পারে।




আপনার মন্তব্য