আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য কঠোর আচরণ বিধিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) তারিখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রচারণার আগে তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক: বিধিমালার ১৬ঙ বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রচারণা শুরুর আগেই প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে তাদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ইমেইল অ্যাড্রেস এবং অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল: আচরণ বিধিমালার ২২ এর (২) বিধি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা বাবদ হওয়া সমস্ত খরচ প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। কন্টেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং বা স্পন্সরশিপের জন্য ব্যয় করা অর্থ সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের সাথে যুক্ত করে নির্দিষ্ট শিরোনামে নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করতে হবে।
রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি নির্দেশনা: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকদের (রিটার্নিং অফিসার) এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কোন কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মোঃ রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এই আদেশে জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে তদারকি করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনার অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং উর্ধ্বতন সচিবদের সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই কড়াকড়ির ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যত্রতত্র এবং নামপরিচয়হীন আইডি থেকে প্রচারণা চালানোর সুযোগ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

