সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মসূচি আরও গতিশীল ও সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ শীর্ষক কর্মসূচির জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হয়েছে। কমিটির নতুন এই কাঠামো আগের (২০২০ সালের) কমিটিকে স্থলাভিষিক্ত করবে।
কমিটির গঠন ও নেতৃত্ব
১৬ সদস্যবিশিষ্ট এই শক্তিশালী কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, যিনি কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন)।
কমিটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সচিব, অর্থ বিভাগ।
সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ)।
সচিব, সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সদস্য, পরিকল্পনা কমিশন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিগণ।
কমিটির কার্যপরিধি (Terms of Reference)
পুনর্গঠিত এই কমিটিকে সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে: ১. বাস্তবায়ন ও পরামর্শ: কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান। ২. সমস্যা সমাধান: কর্মসূচি চলাকালীন কোনো জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। ৩. বাজেট ও নীতি নির্ধারণ: কর্মসূচির আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ, বাজেট বিভাজন ও ব্যয়ের বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল প্রণয়ন। ৪. জনবল নিয়োগ: কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান। ৫. সভা ও মনিটরিং: প্রতি ৩ মাস অন্তর কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করতে হবে এবং প্রকল্প অনুমোদনের লক্ষ্যে বছরে অন্তত ২ বার সভা আয়োজন করতে হবে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটি প্রয়োজনে নতুন কোনো সদস্যকে ‘কো-অপ্ট’ বা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়নের এই বিশেষ উদ্যোগকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতেই বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সমতলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
