সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘ধাপে ধাপে পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ‘কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রচারপত্রে এই নতুন পে-স্কেল পদ্ধতিকে সাধারণ চাকুরিজীবীদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পে-স্কেল ও বর্তমান বাস্তবতা
প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে যে, ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে কর্মচারীদের আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কর্মচারীদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে যেখানে এককালীন বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল, সেখানে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হলে তার সুফল সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছাবে না।
প্রচারপত্রে উঠে আসা প্রধান তিনটি সংকট:
১. বিশেষ সুবিধা কর্তন: অভিযোগ করা হয়েছে যে, বেতন বৃদ্ধির প্রথম ধাপ থেকেই যদি বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা বা ভাতা কেটে নেওয়া হয়, তবে দিনশেষে কর্মচারীদের হাতে বাড়তি কোনো টাকা থাকবে না। ২. বাস্তবায়ন ও সময়ের বৈরিতা: পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হতে হতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যখন এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে, ততদিনে মুদ্রাস্ফীতির কারণে আবার নতুন পে-স্কেলের সময় হয়ে যাবে। ফলে কর্মচারীরা সবসময় জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকবেন। ৩. আর্থিক অবনতি: প্রচারপত্রটিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “পেটে ভাতে চলা কর্মচারীদের আর উন্নতি হবে না।” সৎভাবে জীবনযাপন করতে চাওয়া কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।
নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
পোস্টারটিতে একটি কঠোর নৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে, সৎভাবে জীবনযাপন করে এই দেশে বর্তমান বেতন কাঠামোয় দুবেলা অন্নসংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি চরম ক্ষোভ থেকে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “এ দেশে সরকারি চাকরি শুধু দুর্নীতিবাজদের করা উচিত।” এই বক্তব্যটি সরকারি সেবাখাতে সততার সংকট এবং কর্মচারীদের মানসিক যন্ত্রণার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ কর্মচারীদের মতে, বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ে, তবে তা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ধাপে ধাপে সুবিধা দেওয়ার নামে যদি বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা চরম বিপাকে পড়বেন।
কর্মচারী ঐক্য ফোরামের এই প্রচারপত্রটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সরকারি চাকুরিজীবীদের ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তাকেই বারবার সামনে নিয়ে আসছে।
