পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ক্ষতি বা ‘শিখন ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে আগামী ২৯ মার্চ বিদ্যালয় খোলার পর থেকে পরবর্তী ১০টি শনিবার পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) উপ-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
সিদ্ধান্তের মূল কারণসমূহ
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শিক্ষাপঞ্জিতে রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পাঠ্যক্রম শেষ করার ক্ষেত্রে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি দূর করতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস সম্পন্ন করতেই সাপ্তাহিক ছুটির একদিন কমানোর এই সাময়িক ব্যবস্থা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান,
“শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠপরিকল্পনা বা লার্নিং ম্যাপ অনুযায়ী ক্লাস সংখ্যা বজায় রাখা জরুরি। রমজানের ছুটির ফলে যে ঘাটতি হয়েছে, তা এই ১০ শনিবার অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।”
বাস্তবায়নের রূপরেখা
কার্যকর হওয়ার সময়: আগামী ২৯ মার্চ (রবিবার) থেকে বিদ্যালয়গুলো যখন নিয়মিত পাঠদান শুরু করবে, তার পরবর্তী প্রথম শনিবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।
ছুটি সমন্বয়: সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, টানা ১০ সপ্তাহ শুধুমাত্র শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
নির্দেশনা প্রদান: দেশের সকল জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য যে, এ বছর রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছিল ৮ মার্চ থেকে। দীর্ঘ বিরতির পর ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো ১৫ রমজান পর্যন্ত খোলা রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে শিক্ষকদের দাবির মুখে পুরো রমজান মাস ছুটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে সব পর্যায়েই শিখন ঘাটতি পূরণের বিষয়টি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় আসে।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাবিদদের অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, বছরের শুরুতে এ ধরনের সমন্বয় না করলে বছরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হতো। তবে টানা ক্লাসের ফলে শিক্ষার্থীদের যেন একঘেয়েমি না আসে, সেদিকে খেয়াল রেখে পাঠদানের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

