সরকারি বিধি-নিষেধ

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বিদেশে চিকিৎসা: অর্জিত ছুটি কি আলাদাভাবে কাটবে? সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি চলাকালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের ছুটি প্রযোজ্য হবে, অর্জিত (Earned) ছুটি আলাদাভাবে কাটতে হবে কি না এবং বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জন্য পৃথক আদেশ প্রয়োজন কি না—এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক আলোচনায়ও বিষয়টি সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বহিঃবাংলাদেশ গমন সংক্রান্ত অনুমতি দুটি ভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়। ফলে একজন সরকারি কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকলেও বিদেশ ভ্রমণ বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বহিঃবাংলাদেশ গমনের অনুমতি নিতে হবে।

মাতৃত্বকালীন ছুটির মধ্যে কি নতুন করে অর্জিত ছুটি শুরু করা যায়?

সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি একটি স্বতন্ত্র ছুটি। এই ছুটি কার্যকর থাকা অবস্থায় একই সময়ের জন্য নতুন করে অর্জিত ছুটি বা চিকিৎসাজনিত অর্জিত ছুটি কার্যকর করা যায় না। তবে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, প্রয়োজনীয় মেডিকেল সনদ ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ধারাবাহিকভাবে অর্জিত ছুটি গ্রহণ করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, যদি কোনো কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পরবর্তী তারিখ থেকে অর্জিত ছুটি বা মেডিকেল ভিত্তিক অর্জিত ছুটি কার্যকর করার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলে কী করতে হবে?

প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, সরকারি কর্মচারী যে ধরনের ছুটিতেই থাকুন না কেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বহিঃবাংলাদেশ ভ্রমণের অনুমতি বাধ্যতামূলক। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

ফলে একজন কর্মচারী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকলেও বিদেশে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে—

  • বহিঃবাংলাদেশ গমনের অনুমতি নিতে হবে;
  • চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল সনদ জমা দিতে হতে পারে;
  • বিদেশ ভ্রমণের জন্য পৃথক প্রশাসনিক আদেশ (Office Order) জারি হতে পারে;
  • তবে শুধুমাত্র বিদেশে যাওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অর্জিত ছুটি কাটবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নেই, যদি তিনি ইতোমধ্যে বৈধ ছুটিতে অবস্থান করেন।

আলাদা আদেশ কেন প্রয়োজন?

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ছুটি ভোগ এবং বিদেশ গমনের অনুমতি দুটি পৃথক প্রশাসনিক অনুমোদন। একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ছুটিতে থাকলেও বিদেশে অবস্থান করলে সরকারের কাছে তার অবস্থান ও সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেই বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জন্য পৃথক আদেশ জারি করা হয়ে থাকে।

সারসংক্ষেপ

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নতুন করে অর্জিত ছুটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা যায় না। তবে মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মেডিকেল সনদের ভিত্তিতে অর্জিত বা চিকিৎসাজনিত ছুটি গ্রহণ করা সম্ভব। অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে হলে কর্মচারী যে ধরনের ছুটিতেই থাকুন না কেন, বহিঃবাংলাদেশ গমনের জন্য পৃথক অনুমতি ও প্রশাসনিক আদেশ গ্রহণ করতে হবে। ফলে বিষয়টি মূলত ছুটি নয়, বিদেশ ভ্রমণের প্রশাসনিক অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *