দেশের বেসরকারি খাতে কর্মরত লাখো চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এক বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে সরকার নিয়মিত উদ্যোগ নিলেও বেসরকারি খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক কর্মীর আয়, বেতন বৃদ্ধি ও জীবনমানের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মচারীর বেতন বছরের পর বছর অপরিবর্তিত থাকে। এতে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি খাত বলতে শুধু তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্প নয়; বরং বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য কোম্পানি, মোবাইল ফোন অপারেটর, ওষুধ শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য কোম্পানিতে লাখো মানুষ কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন সমন্বয়ের সুযোগ পান না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বক্তব্যে দাবি করা হয়, সরকার গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও অন্যান্য বেসরকারি খাতে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা বা পর্যাপ্ত তদারকি নেই। ফলে একই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও অনেক কর্মী আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত কর্মীদের জন্য নিয়মিত বেতন পর্যালোচনা, ন্যায্য ইনক্রিমেন্ট এবং শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বেসরকারি খাতের কর্মীদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকার ইতোমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে, যা সরকারি কর্মীদের আয়ে পরিবর্তন আনবে।
তবে উল্লেখ্য, বেসরকারি খাতের সব প্রতিষ্ঠানে বেতন বৃদ্ধি হয় না—এমন দাবি সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক অবস্থা, কর্মদক্ষতা এবং নিজস্ব মানবসম্পদ নীতির ভিত্তিতে বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই বেসরকারি খাত নিয়ে উত্থাপিত এ বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতামত ও দাবি হিসেবে বিবেচ্য।
