রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের নিকট থেকে অর্থ দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে পিজিএলে (প্রিন্সিপাল/পিজি সংশ্লিষ্ট সংযুক্তি) সংযুক্ত করার অফিস আদেশ জারি করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, কসবা।
সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে জানা যায়, কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়েশা বুলবুল-এর বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত নার্সের আচরণ জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
একইসঙ্গে আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি ৬ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অনিয়ম ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকে।
উপসংহার
রোগীদের সঙ্গে আচরণ ও সেবার মান নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিভাগের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
