আজকের খবর ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর ২০২৬ : বাড়তি বেতন কবে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা? যা জানা গেল

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে। ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও বর্ধিত বেতন ঠিক কবে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে—এ প্রশ্ন এখন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে একই দিন থেকেই বাড়তি বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। কারণ নতুন বেতন কার্যকর করতে প্রশাসনিক অনুমোদন, সরকারি গেজেট প্রকাশ, আইবাস (IBAS++)-এ বেতন কাঠামো হালনাগাদ, বেতন বিল প্রস্তুত এবং হিসাব সমন্বয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

গেজেট প্রকাশের পরই শুরু হবে বাস্তবায়নের মূল প্রক্রিয়া

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি গেজেট প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গেজেট জারি হওয়ার পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করবে। এরপর আইবাস (IBAS++) সফটওয়্যারে নতুন তথ্য সংযোজন করে বেতন বিল প্রস্তুত করা হবে।

এই প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই নতুন হারে বেতন ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হবে। যদি নিয়মিত মাসিক বেতন প্রস্তুতের আগে সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মাসেই নতুন বেতন পাওয়া যেতে পারে। অন্যথায় পরবর্তী মাসে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পরিশোধ করা হতে পারে।

বকেয়াসহ বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, গেজেট প্রকাশ ও সফটওয়্যারভিত্তিক সমন্বয় শেষ হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন হারে বেতন দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কার্যকরের তারিখ থেকে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধ করা হবে, যাতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

বাজেট বক্তৃতায় ছিল ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা

এর আগে জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পে কমিশনের প্রস্তাবে কী রয়েছে?

নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—

  • সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বিভিন্ন স্তরে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

এখন কী অপেক্ষা?

যদিও নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে, তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে বাড়তি অর্থ পৌঁছাতে এখন নজর থাকবে সরকারি গেজেট প্রকাশ, আইবাস (IBAS++)-এ বেতন কাঠামো হালনাগাদ এবং অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক নির্দেশনার দিকে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন হারে বেতন এবং প্রয়োজন হলে বকেয়া অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ায় এটি সরকারি বেতন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার অপেক্ষা—কবে নতুন হারে বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *