আজকের খবর ২০২৬

কোরবানির হাটে জাল নোটের আতঙ্ক : চেনার উপায় ও সতর্কবার্তা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে পশুর হাট ও বিপণিবিতানগুলোতে লেনদেন বেড়েছে কয়েক গুণ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট চক্র। বিশেষ করে পশুর হাটে বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে অসাধু চক্রগুলো। এক মুহূর্তের অসাবধানতায় আপনার কষ্টের উপার্জিত অর্থ হয়ে যেতে পারে মূল্যহীন।

জাল নোট শনাক্ত করার অব্যর্থ উপায়

বাজারে প্রচলিত ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলোতে বেশ কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকে, যা দেখে সহজেই আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা সম্ভব:

  • জলছাপ (Watermark): নোট আলোর বিপরীতে ধরলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো এবং নোটের মান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। জাল নোটে এগুলো ঝাপসা বা অনুপস্থিত থাকে।

  • রং পরিবর্তনশীল কালি (OVI): ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ওপরের ডান কোণে থাকা সংখ্যার রং নোটটি নাড়াচাড়া করলে পরিবর্তিত হয়। আসল নোটে এটি মসৃণভাবে রং বদলালেও জাল নোটে এই পরিবর্তন দেখা যায় না।

  • নিরাপত্তা সুতা (Security Thread): আসল নোটের ভেতরে একটি বিশেষ সুতা থাকে, যা কাগজের সাথে গেঁথে দেওয়া। এটি টেনে ছেঁড়া সম্ভব নয় এবং আলোর বিপরীতে দেখলে এতে নোটের মান লেখা দেখা যায়।

  • খসখসে বা উঁচু ছাপা (Intaglio Print): আসল নোটের নির্দিষ্ট কিছু অংশ, যেমন—’বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখা এবং প্রতিকৃতিতে হাত দিলে উঁচু-নিচু বা খসখসে অনুভূত হবে। সাধারণ কাগজে ছাপা জাল নোটে এই অনুভূতি পাওয়া যায় না।

  • কাগজের মান ও শব্দ: আসল নোটের কাগজ তৈরিতে বিশেষ ধরনের তুলা ও ফাইবার ব্যবহৃত হয়, যা সাধারণ কাগজের চেয়ে শক্ত। নোটটি ঝাড়া দিলে বা হালকা ভাঁজ করলে একটি বিশেষ ধরনের ‘খসখসে’ শব্দ তৈরি হয়।


হাটে লেনদেনের সময় করণীয়

পশুর হাটে সাধারণত তাড়াহুড়োর মধ্যে লেনদেন হয়, যার সুযোগ নেয় প্রতারকরা। তাই লেনদেনের সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি:

  1. সময় নিয়ে যাচাই: বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের সময় প্রতিটি নোট অন্তত একবার আলোর বিপরীতে ধরে দেখুন।

  2. ব্যাংক বুথের সহায়তা: প্রায় প্রতিটি বড় পশুর হাটেই ব্যাংকগুলোর অস্থায়ী বুথ থাকে। সন্দেহ হলে সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে নোট যাচাই করে নিন।

  3. সিরিয়াল নাম্বার পর্যবেক্ষণ: নোটের দুই পাশে থাকা সিরিয়াল নাম্বারগুলো সমানভাবে ছাপা কি না এবং ফন্ট ঠিক আছে কি না তা লক্ষ্য করুন।

সতর্কতা ও আইনগত ব্যবস্থা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাল নোট চক্র ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ প্রতিরোধ। যদি কেউ জাল নোটের সন্ধান পান বা কেউ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ পুলিশ সদস্য বা বাজার কমিটিকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মনে রাখবেন: আপনার একটু সচেতনতা আপনার এবং আপনার পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষা করতে পারে। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকেও সতর্ক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *