আগামীকাল থেকে ভূমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এখন থেকে দলিল নিবন্ধনের যাবতীয় ফি ও শুল্ক ম্যানুয়াল পে-অর্ডারের পরিবর্তে শুধুমাত্র অটোমেটেড চালানের (A-Challan) মাধ্যমে জমা দিতে হবে। নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে যা যা জমা দিতে হবে
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এখন থেকে অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে নিচের ফি ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে:
নিবন্ধন ফিস: দলিলে উল্লিখিত মূল্যের ওপর প্রযোজ্য ফি।
স্ট্যাম্প শুল্ক: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্ট্যাম্প ডিউটি।
উৎসে কর (আয়কর আইনের ১২৫ ধারা): সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আয়কর।
উৎসে কর (আয়কর আইনের ১২৬ ধারা): প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তাধীনে ধার্য আয়কর।
ভ্যাট (VAT): সরকারি নির্ধারিত হারে প্রযোজ্য ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স।
পে-অর্ডার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ম্যানুয়াল পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি এখন থেকে সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে, আগামীকাল থেকে কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আর পে-অর্ডার গ্রহণ করা হবে না।
আপনার কাছে যদি আগে থেকেই কোনো পে-অর্ডার করা থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ভাঙিয়ে নিতে হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নতুন নিয়মে অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেন এই পরিবর্তন?
সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। অটোমেটেড চালানের সুবিধাগুলো হলো: ১. স্বচ্ছতা: ব্যাংক ও সরকারি কোষাগারের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় অনিয়মের সুযোগ কমবে। ২. সময় সাশ্রয়: দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পে-অর্ডার বা ম্যানুয়াল চালানের জটিলতা থেকে মুক্তি মিলবে। ৩. নিশ্চয়তা: অনলাইনে চালানের কপি যাচাইযোগ্য হওয়ায় জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে।
সংশ্লিষ্ট সকলকে আগামীকালের মধ্যে নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হওয়ার এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে এ-চালান পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে নিকটস্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা ব্যাংকের সহায়তা নিতে পারেন।
