আজকের খবর ২০২৬

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ: ঘরে বসেই মিলবে দাখিলা, জেনে নিন সহজ ধাপগুলো

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর ও স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এখন ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা যাচ্ছে। সরকারের land.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে নাগরিকেরা যেকোনো স্থান থেকে অত্যন্ত দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত উপায়ে এই সেবা উপভোগ করতে পারছেন। নিচে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (LDT) পরিশোধের বিস্তারিত প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো:

১. পোর্টাল প্রবেশ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি

ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের প্রথম ধাপ হলো সরকারের অফিশিয়াল ভূমি সেবা পোর্টাল land.gov.bd-এ প্রবেশ করা।

  • পোর্টালে প্রবেশ করার পর আপনাকে লগইন করতে হবে।

  • যদি আগে থেকে অ্যাকাউন্ট করা না থাকে, তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

২. হোল্ডিং যাচাই ও নির্বাচন

লগইন করার পর মূল ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ (LDT) সেবায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর আপনার প্রোফাইলের ‘হোল্ডিং তালিকা’ অপশনে যেতে হবে। এখানে মূলত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে:

পরিস্থিতি ক: হোল্ডিং তালিকায় তথ্য না থাকলে (নতুন হোল্ডিং যুক্তকরণ)

যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান বা হোল্ডিংটি তালিকায় দেখা না যায়, তবে আপনাকে সেটি নতুন করে যুক্ত করতে হবে। এর জন্য নিচের তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে:

  • জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম।

  • খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর।

  • মালিকের বিস্তারিত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় দলিলের স্ক্যান কপি।

নোট: তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস (ইউনিয়ন/পৌর ভূমি অফিস) এটি যাচাই করবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর হোল্ডিংটি আপনার তালিকায় যুক্ত হবে।

পরিস্থিতি খ: হোল্ডিং তালিকায় তথ্য থাকলে

যদি আপনার হোল্ডিংটি আগে থেকেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে বা অনুমোদিত হয়ে যুক্ত হয়, তবে সরাসরি তালিকা থেকে সেটি নির্বাচন করুন।

৩. বকেয়া কর নির্ধারণ ও অনলাইন পেমেন্ট

হোল্ডিং নির্বাচন করার পর স্ক্রিনে আপনার জমির মোট বকেয়া খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ প্রদর্শিত হবে।

  • করের পরিমাণ দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর ‘Pay’ বা পরিশোধ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

  • পেমেন্ট গেটওয়েতে আসার পর আপনি আপনার সুবিধাজনক যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। যেমন:

    • মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), রকেট ইত্যাদি।

    • কার্ড: ভিসা (Visa), মাস্টারকার্ড (Mastercard)।

    • এছাড়া অন্যান্য ই-পেমেন্ট বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা।

৪. ডিজিটাল দাখিলা (রসিদ) সংগ্রহ

পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে একটি ডিজিটাল ‘দাখিলা’ (টাকা প্রাপ্তির রসিদ) জেনারেট হবে। এটি আপনার কর পরিশোধের আইনি প্রমাণ। দাখিলাটি ভবিষ্যতের জন্য ডাউনলোড করে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করুন।

কিছু জরুরি পরামর্শ

  • সময়মতো কর দিন: জরিপানা ও আইনি জটিলতা এড়াতে প্রতি বছর সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন।

  • দাখিলা সংরক্ষণ: ডিজিটাল বা প্রিন্ট কপি—যেকোনো ভাবেই হোক, কর পরিশোধের দাখিলাটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন, যা পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে প্রয়োজন হবে।

অনলাইন এই ব্যবস্থার ফলে এখন আর ভূমি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের (দালাল) হয়রানির শিকার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আজই আপনার ভূমি কর অনলাইনে পরিশোধ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *