আজকের খবর ২০২৬

নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েড টিকা: ১ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী শুরু

দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) স্থায়ীভাবে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV)। আগামী ০১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী এই নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ২০২৫ সালে জাতীয়ভাবে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবং ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (NITAG), বাংলাদেশ ও ইন্টার এজেন্সি কোঅর্ডিনেশন কমিটির (IACC) সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দীর্ঘস্থায়িত্ব বিবেচনায় এই টিকাকে নিয়মিত কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

টিকার বিস্তারিত নির্দেশনাবলী

মাঠপর্যায়ে উচ্চ কাভারেজ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:

  • নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী: ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া থেকে শুরু করে ২ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সকল শিশু এই টিকা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

  • ডোজ ও প্রয়োগ পদ্ধতি: শিশুদের জন্য টিকার ডোজ নির্ধারণ করা হয়েছে ০.৫ মিলি। এটি একটি একক ডোজ (০১ ডোজ) হিসেবে বাম ঊরুর মধ্যভাগের বহিঃরাংশের মাংসপেশীতে প্রদান করা হবে।

  • অন্য টিকার সাথে সমন্বয়: একই সেশনে এই টিকাটি শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার দ্বিতীয় ডোজের (MR-2) সাথে সহ-প্রদান (Co-administration) করা যাবে।

  • টিকাদানের স্থান: দেশব্যাপী ইপিআই-এর সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এই টিকা প্রদান করা হবে। মাঠকর্মীরা নিজ নিজ ওয়ার্ডের আওতাধীন ১৫ মাস বয়সী সকল শিশুকে অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এই টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *