আজকের খবর ২০২৬

মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন ও কার্যতালিকা সংশোধনে নতুন নির্দেশনা, প্রস্তাব পাঠাতে মানতে হবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গঠন বা পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং দায়িত্ব বা কার্যতালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্ট করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ লক্ষ্যে Rules of Business, 1996 এবং এর অধীন Schedule-I Allocation of Business (কার্যতালিকা) সংশোধনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি অধিশাখা থেকে ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, এখন থেকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং Allocation of Business সংশোধনের প্রস্তাব নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, Rules of Business, 1996-এর Rule 3 অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং কার্যতালিকা নির্ধারণ করতে পারেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের ব্যাপকতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়ে থাকে।

এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন পাওয়ার পর অনুমোদিত কার্যতালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাতে হয়।

তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে অসম্পূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণ শেষে দ্রুততার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিধি-বিধান, রীতি ও পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন-পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং কার্যতালিকা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারি ওয়েবসাইটেও সংশ্লিষ্ট পরিপত্রটি বিজ্ঞপ্তি ও প্রজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় গঠন, পুনর্গঠন বা নাম পরিবর্তনে যেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে

পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, পুনর্গঠন কিংবা নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

প্রথমত, Rules of Business, 1996-এর Rule 10 অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, Rule 11 অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখার পরামর্শ নিতে হবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাবটি পরীক্ষা ও পর্যালোচনার জন্য প্রাক্তন সিনিয়র সচিব কমিটির সুপারিশ গ্রহণের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে ইংরেজি নাম উল্লেখ করে পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষে প্রাক্তন সিনিয়র সচিব কমিটি এবং নিকারের সুপারিশ-সংবলিত কার্যবিবরণীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

Allocation of Business সংশোধনেও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিদ্যমান কার্যতালিকা পরিবর্তন বা নতুন দায়িত্ব সংযোজনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রথমে Rule 10 অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিতে হবে।

এরপর Rule 11 অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখার পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সম্মতি নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া বিদ্যমান এবং প্রস্তাবিত Allocation of Business-এর তুলনামূলক বিবরণী তৈরি করে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ বর্তমানে কোন দায়িত্ব রয়েছে এবং সংশোধনের মাধ্যমে কোন দায়িত্ব সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

সবশেষে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ-সংবলিত কার্যবিবরণীসহ সম্পূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

প্রস্তাবের সঙ্গে দিতে হবে খসড়া প্রজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর প্রস্তাব পাঠানোর সময় সুনির্দিষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ খসড়া প্রজ্ঞাপন সংযুক্ত করতে হবে।

খসড়া প্রজ্ঞাপনটি প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ৩ সেট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখায় পাঠাতে হবে।

এর ফলে প্রস্তাব পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগের পরিপত্র বাতিল

নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে জারি করা একই ধরনের নির্দেশনাসংক্রান্ত পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ফলে এখন থেকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন এবং Schedule-I Allocation of Business সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা নতুন নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশনা

সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কী দায়িত্ব পালন করবে, তা মূলত Allocation of Business-এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কোনো দায়িত্ব এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর, নতুন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সৃষ্টি, বিদ্যমান বিভাগের পুনর্গঠন কিংবা নাম পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে Rules of Business অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এসব প্রস্তাব পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ, বিধি শাখার পরামর্শ, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় কমিটির সুপারিশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে অসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, Rules of Business, 1996 ও Schedule-I Allocation of Business সংশোধনের নতুন নির্দেশনা সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা, সমন্বয় ও গতিশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্ধারিত সব প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *