আজকের খবর ২০২৬

দানপত্র ও হেবা দলিলে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের উদ্যোগ—সব ধর্মের মানুষের জন্য নতুন সুরক্ষার প্রস্তাব

দানপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতা তার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে The Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026-এ। প্রস্তাবিত আইনে নতুন Section 122A ও 122B সংযোজনের মাধ্যমে ‘Gift with reservation of right of usufruct’ বা আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান-এর একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়; এটি একটি বিল বা প্রস্তাবিত আইন। ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ফলে সংসদে পাস ও পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে একে কার্যকর আইন বলা যাবে না।


বিল নং ১০৫/২০২৬: কী পরিবর্তন আনার প্রস্তাব?

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বিল নং ১০৫/২০২৬, যার শিরোনাম The Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026, মূলত Transfer of Property Act, 1882-এ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান করার পাশাপাশি দাতার নিজের জন্য আজীবন ভোগ বা উপভোগের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই শূন্যতা দূর করতেই নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্বজনের নামে সম্পত্তি দান করলেও নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির ভোগদখল ও উপভোগের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।


নতুন Section 122A-তে কী আছে?

প্রস্তাবিত Section 122A অনুযায়ী, বিদ্যমান আইন বা অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর সম্পত্তি দান করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে সেই সম্পত্তির ওপর নিজের আজীবন ভোগের অধিকার (lifetime enjoyment বা usufruct rights) সংরক্ষণ করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত বিধানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

১. সম্পত্তি দান করা যাবে, কিন্তু দাতা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন

এটি হবে এমন এক ধরনের দান, যেখানে—

  • সম্পত্তির দানগ্রহীতা বা গ্রহীতা নির্ধারিত থাকবেন;
  • কিন্তু দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগদখলের অধিকার বজায় রাখতে পারবেন;
  • দাতার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আইন অনুযায়ী পরবর্তী পর্যায়ে কার্যকর হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে দাতা সম্পত্তি হস্তান্তর করেও আজীবন তা ব্যবহার ও উপভোগের আইনগত অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।


কারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন?

প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় এই বিশেষ ধরনের দান সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। ছবিতে থাকা বিলের খসড়া অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা করা যাবে।

এর মধ্যে রয়েছে—

✔ বাবা-মা ও সন্তান

কোনো পিতা বা মাতা তার সন্তানকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন, আবার সন্তানও আইন নির্ধারিত সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা করতে পারবেন।

✔ দাদা-দাদি বা নানা-নানি ও নাতি-নাতনি

প্রস্তাবিত বিধানে দাদা-দাদি বা নানা-নানি এবং নাতি-নাতনির সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

✔ নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় স্বজন

বিলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়দের মধ্যে এই বিশেষ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

✔ স্বামী ও স্ত্রী

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও প্রস্তাবিত বিধানের আওতায় আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের সুযোগ রাখা হয়েছে।


যাদের শুধু কন্যাসন্তান আছে, তাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের অনেক পরিবারে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়—জীবদ্দশায় মেয়ের নামে সম্পত্তি দিয়ে দিলে পরে নিজের বসবাস বা ভোগদখলের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত থাকবে?

বিশেষ করে—

  • যাদের কোনো পুত্রসন্তান নেই;
  • যারা জীবদ্দশায় মেয়েদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান;
  • যারা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যৎ পারিবারিক বিরোধ কমাতে চান;
  • কিন্তু একই সঙ্গে নিজের জীবদ্দশায় বাড়ি, জমি বা অন্যান্য সম্পত্তির ব্যবহারাধিকার ছাড়তে চান না—

তাদের জন্য প্রস্তাবিত বিধানটি কার্যকর হলে একটি আইনি সুরক্ষার কাঠামো তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে মনে রাখতে হবে, এই বিলের বিধান এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত আইন হওয়ার আগে এর ভাষা বা পরিধিতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরিবর্তন আসতে পারে।


সাধারণ দানপত্র ও হেবা কি বন্ধ হয়ে যাবে?

না।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থাটি বিদ্যমান—

  • সাধারণ দান (Gift),
  • মুসলিম আইনের হেবা (Heba),
  • অথবা অন্য কোনো বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থাকে

অকার্যকর বা সীমিত করার জন্য নয়।

বরং আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দানকে একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রচলিত দান বা হেবার আইনগত কাঠামো একদিকে থাকবে, অন্যদিকে নতুনভাবে একটি বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


দলিল কীভাবে করতে হবে?

প্রস্তাবিত ১২২এ ধারার ভাষা অনুযায়ী, এ ধরনের স্থাবর সম্পত্তির দান নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু মৌখিক ঘোষণা করলেই হবে না; প্রস্তাবিত আইনের আওতায় এই বিশেষ ধরনের দানের জন্য যথাযথ রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হবে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সম্পত্তির মালিকানা, দাতার আজীবন ভোগের অধিকার এবং দানগ্রহীতার ভবিষ্যৎ অধিকার—সবকিছু দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন হবে।


দাতার মৃত্যুর পর কী হবে?

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, দাতার জীবদ্দশায় তার সংরক্ষিত ভোগের অধিকার বহাল থাকবে। কিন্তু দাতার মৃত্যু হলে সেই অধিকার স্বাভাবিকভাবে আর থাকবে না এবং সম্পত্তি দানগ্রহীতার আইনগত অধিকারের আওতায় যাবে।

এখানে মূল দর্শনটি হলো—

মালিকানা বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা একদিকে, আর দাতার জীবদ্দশায় ভোগের অধিকার অন্যদিকে।

এই দুই বিষয়কে একই দলিলের কাঠামোর মধ্যে স্পষ্টভাবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগই নতুন সংশোধনীর অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।


দান করার পর কি তা বাতিল করা যাবে?

প্রস্তাবিত নতুন Section 122B-তে দান বাতিল বা পরিবর্তনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিলের খসড়া অনুযায়ী, Section 122A-এর অধীনে সম্পাদিত দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় বা irrevocable থাকবে।

তবে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

পারস্পরিক সম্মতিতে পরিবর্তন বা বাতিল

দাতা ও দানগ্রহীতা উভয়ের সম্মতিতে এবং নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে—

  • পরিবর্তন,
  • বাতিল,
  • অথবা সৃষ্ট অধিকার নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে—

  • আর্থিক প্রয়োজন,
  • চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন,
  • শিক্ষাসংক্রান্ত প্রয়োজন,
  • পারিবারিক প্রয়োজন,
  • অথবা অন্য কোনো প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতি—

বিবেচনায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


একজনের সম্মতি পাওয়া না গেলে কী হবে?

প্রস্তাবিত ১২২বি ধারায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পক্ষের—

  • অপ্রাপ্তবয়স্কতা,
  • মানসিক অসুস্থতা,
  • আইনগত অক্ষমতা,
  • বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে

সম্মতি পাওয়া সম্ভব না হলে, অপর পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে জেলা জজ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা বাতিলের অনুমতি দিতে পারেন।

তবে আদালতকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে—

  • সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে;
  • প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করতে হবে;
  • আবেদনটি সরল বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

এই বিধান প্রস্তাবিত আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য হবে

এই প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ব্যক্তির জন্য সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়নি

সরকারের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান ব্যবস্থা সব ধর্মের মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশের সম্পত্তি আইনে বিভিন্ন ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের কারণে হেবা, দান ও উত্তরাধিকার প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন কাঠামো থাকলেও, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা Transfer of Property Act, 1882-এর অধীনে একটি সাধারণ দেওয়ানি আইনগত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে।


কেন এই সংশোধনীর প্রয়োজন হলো?

প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক সময় একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে পারেন।

যেমন—

১. দান করার পর দাতার বসবাসের নিরাপত্তা

বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানের নামে বাড়ি লিখে দেওয়ার পর যদি পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তাহলে দাতার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

২. সম্পত্তি দিয়ে দিলেও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন

অনেকে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান, কিন্তু জীবিত থাকা পর্যন্ত বাড়ি বা জমির ব্যবহারাধিকার রাখতে চান।

৩. পারিবারিক বিরোধ কমানোর চেষ্টা

আগেই সম্পত্তি হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হলে ভবিষ্যতের বিরোধ কমতে পারে—যদিও বাস্তবে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা।

৪. নারী ও কন্যাসন্তানের সম্পত্তি নিরাপত্তা

কন্যাসন্তানের নামে সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে দাতা নিজের জীবদ্দশার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেও ভবিষ্যৎ সম্পত্তি পরিকল্পনা করতে পারবেন—এমন একটি সম্ভাব্য কাঠামো তৈরি হতে পারে।


এটি কি সত্যিই ‘রক্ষাকবচ’?

সম্ভাব্যভাবে হ্যাঁ, তবে শর্তসাপেক্ষে।

এই আইন কার্যকর হলে এটি বিশেষত সেইসব মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যারা—

  • বয়স বাড়ার আগে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি পরিকল্পনা করতে চান;
  • শুধু কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান;
  • স্বামী বা স্ত্রীর নামে সম্পত্তি দিতে চান;
  • দাদা-দাদি বা নানা-নানি হিসেবে নাতি-নাতনির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান;
  • কিন্তু নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ছাড়তে চান না।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিলের ভাষা, সম্পত্তির প্রকৃতি, দখল, বিদ্যমান মালিকানা, পারিবারিক সম্পর্ক ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন কার্যকর হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে দলিল করার আগে পেশাদার আইনি পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: বিল এখনো আইনে পরিণত হয়নি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হলো—

বিলটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে।

২৭ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদে The Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026 উত্থাপন করা হয় এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি গেজেটে বিল নং ১০৫/২০২৬ হিসেবে এর প্রকাশনা পাওয়া যাচ্ছে।

অতএব, এখনই বলা সঠিক হবে না যে “আজ থেকেই নতুন আইন কার্যকর হয়ে গেছে।”

বরং বলা যায়—

বাংলাদেশে দানপত্রের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এক নজরে প্রস্তাবিত নতুন বিধান

বিষয়প্রস্তাবিত ব্যবস্থা
আইনThe Transfer of Property (Amendment) Bill, 2026
বিল নম্বর১০৫/২০২৬
মূল আইনTransfer of Property Act, 1882
নতুন ধারা122A ও 122B
মূল সুবিধাদান করেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ
কারা সুবিধা পেতে পারেননির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় স্বজন ও স্বামী-স্ত্রী
দলিলনিবন্ধিত দলিলের প্রস্তাব
দান বাতিলসাধারণভাবে অপরিবর্তনীয়; নির্দিষ্ট শর্তে পরিবর্তন/বাতিলের সুযোগ
আদালতের ভূমিকাবিশেষ পরিস্থিতিতে জেলা জজের অনুমতির প্রস্তাব
ধর্মীয় প্রযোজ্যতাসব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য করার প্রস্তাব
বর্তমান অবস্থাবিল; এখনো চূড়ান্ত আইন নয়

উপসংহার

বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাব্য যুগান্তকারী সংশোধনী উদ্যোগ। সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সম্পত্তি দান করেও যাতে দাতা জীবদ্দশায় নিজের বসবাস ও ভোগের অধিকার হারিয়ে না ফেলেন—সেই বাস্তব সমস্যার একটি আইনি সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই বিলে।

বিশেষ করে কন্যাসন্তান থাকা পরিবার, প্রবীণ বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে একটি বিষয় পরিষ্কার—বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এখনো আইন হিসেবে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি কী রূপে আইন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source File

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *