শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি সেবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ তথ্যের ভান্ডার।

শিরোনাম
সরকারি বাসায় সাবলেট ভাড়া নিয়ে কঠোর অবস্থানে আবাসন পরিদপ্তর, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলে কঠোর নিয়ম: নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধান সংস্থাপন কর্মচারীদের বেতন বিল ফরম PDF: বেতন, ভাতা ও কর্তনের হিসাব যেভাবে প্রস্তুত করবেন ১৮ বছরে শুরু করলে মাসে ১ লাখ ৭২ হাজার, ৫০ বছরে শুরু করলে ৭ হাজার ৬৫১ টাকা। প্রতি ৫ বছর দেরিতে পেনশন কমে ৩৫ থেকে ৪৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল ও স্কুটারের নম্বর প্লেট ডিজাইনে নতুন সুবিধা, নিজের পছন্দে তৈরি করা যাবে প্রিন্টযোগ্য PDF নতুন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণে আইবাস++-এর বিশেষ অপশন, জেনে নিন নিয়ম ও করণীয় পৈতৃক জমির নামজারিতে বড় স্বস্তি, বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ খতিয়ান করার সুযোগ সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নিয়ম, প্রতিদিন সকাল ৭টায় মিলবে বুকিংয়ের সুযোগ সরকারি চাকরিতে সাময়িক বরখাস্ত হলে বেতন-ভাতা কতটুকু পাওয়া যায়? খোরপোষ ভাতা নিয়ে যা জানা জরুরি মুদি দোকানের লাভ-লোকসান এবার হাতের মুঠোয়, বিক্রি ও খরচের হিসাব করবে ডিজিটাল টুল

অননুমোদিত ঋণ অ্যাপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান বিএফআইইউর, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও হয়রানির আশঙ্কা

admin ৫ মিনিটের পাঠ
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও হয়রানির আশঙ্কা

সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম থেকে ঋণ গ্রহণ না করার জন্য সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি বলেছে, এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হুমকি, হয়রানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটির তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৬।

দ্রুত ঋণের ফাঁদে বাড়ছে ঝুঁকি

বিএফআইইউ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সহজ শর্তে এবং দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রচারণা চালাচ্ছে।

কিন্তু এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের অনেকেরই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন এসব ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য, কনট্যাক্ট লিস্ট, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে ঋণগ্রহীতার ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং ঋণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ঋণ দেওয়া অবৈধ

বিএফআইইউ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈধ নয়।

একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ঋণ দেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

বিএফআইইউর মতে, এ ধরনের অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে বিএফআইইউ

সাধারণ জনগণকে বিশেষভাবে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে—

১. অচেনা অ্যাপ থেকে ঋণ নেবেন না

কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ গ্রহণের আগে প্রতিষ্ঠানটির আইনগত অনুমোদন আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

২. সহজ শর্তের বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

‘কয়েক মিনিটে ঋণ’, ‘কোনো কাগজপত্র ছাড়াই টাকা’, ‘তাৎক্ষণিক ক্যাশ’—এ ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া বা অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

৩. মোবাইলের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার নয়

অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মকে—

  • মোবাইলের কনট্যাক্ট লিস্ট,
  • ব্যক্তিগত ছবি,
  • পরিচয়পত্রের তথ্য,
  • ব্যাংক হিসাবের তথ্য,
  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্য

প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪. ঋণের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সতর্ক হোন

ঋণ প্রদানের নামে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি, ইনস্যুরেন্স ফি বা অন্য কোনো অযৌক্তিক অর্থ দাবি করা হলে সেটিকে প্রতারণার সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

একাধিক সন্দেহভাজন অ্যাপের নাম উল্লেখ

বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, লোনবাডি, ক্যাশ লোন, আশা লোন, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, লোনহাট ও টাকানাওসহ আরও কয়েকটি অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিএফআইইউর সতর্কতায় প্রায় ৩০ থেকে ৩১টি অননুমোদিত ঋণ অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মের নাম উল্লেখের কথা বলা হয়েছে।

প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন?

কেউ যদি অননুমোদিত কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারণা, হয়রানি বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের শিকার হন, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ।

এ ছাড়া অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো—

  • মোবাইল অ্যাপ,
  • অনলাইন প্ল্যাটফর্ম,
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ বা পেজ,
  • ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের

বিষয়ে তথ্য থাকলেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

এ জন্য বিএফআইইউর ওয়েবসাইটের অভিযোগ গ্রহণসংক্রান্ত পোর্টালে তথ্য দেওয়া যেতে পারে।

কেন এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দেশে দ্রুত ঋণ দেওয়ার নামে বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। আর্থিক সংকটে থাকা মানুষ দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় অনেক সময় অ্যাপ ইনস্টলের সময় না বুঝেই মোবাইলের কনট্যাক্ট, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দেন।

পরবর্তীতে সেই তথ্যই হয়ে উঠতে পারে হয়রানির হাতিয়ার।

ঋণের টাকা পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেও পরিচিতজনদের ফোন করা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য প্রকাশের ভয় দেখানো কিংবা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার মতো অভিযোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামনে এসেছে বলে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য মূল বার্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন যাচাই না করে কোনো মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত ঋণের লোভে ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল কনট্যাক্ট, ছবি, ব্যাংক হিসাব বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অপরিচিত অ্যাপের কাছে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

বিএফআইইউর এই সতর্কতা মূলত ডিজিটাল ঋণের নামে প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং আর্থিক হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে।

সোর্স

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *