BD Govt Service Rules

e-Return নিয়ে NBR-এর ৪৪ প্রশ্নের উত্তর: রিটার্ন দাখিল থেকে TDS সমন্বয়—যা জানা জরুরি

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) e-Return ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ, নিবন্ধন, কর পরিশোধ, উৎসে করের ক্রেডিট, সম্পদ-দায় বিবরণী, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের TDS, গাড়ির অগ্রিম কর এবং রিটার্ন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৪৪টি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ করেছে। NBR-এর ওয়েবসাইটে ‘e-Return সম্পর্কিত সচরাচর জিজ্ঞাসা ও উত্তর, ২০২৬’ শিরোনামে এই FAQ ২৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে।

এই FAQ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, e-Return শুধু অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা নয়; বরং করদাতার আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ, দায়, উৎসে কর এবং কর পরিশোধের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। ফলে রিটার্ন দাখিলের আগে তথ্যের সঠিকতা ও বিভিন্ন খাতের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

e-Return শুরু করতে যা লাগবে

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে প্রথমে e-Return সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে TIN, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং NID-এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘I am not registered yet’ অপশন নির্বাচন করে TIN ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর মোবাইলে ৬ সংখ্যার OTP আসবে। OTP যাচাই করে পাসওয়ার্ড সেট করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, TIN খোলার সময় ব্যবহৃত পুরোনো মোবাইল নম্বর বর্তমানে না থাকলেও e-Return নিবন্ধন করা সম্ভব। NID-এর বিপরীতে বর্তমানে নিবন্ধিত অন্য মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। নিবন্ধনের পর মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের সুবিধাও রয়েছে।

মোবাইল নম্বর নিজের নামে আছে কি না যেভাবে যাচাই করবেন

ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি নিজের NID-এর নামে নিবন্ধিত কি না জানতে *16001# ডায়াল করে NID-এর শেষ চারটি সংখ্যা দিতে হবে। এরপর মোবাইল অপারেটরের ফিরতি বার্তায় NID-এর বিপরীতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য পাওয়া যাবে।

পাসওয়ার্ডে থাকতে হবে চার ধরনের উপাদান

e-Return-এর পাসওয়ার্ড কমপক্ষে ৮ অক্ষরের হতে হবে। এতে অন্তত একটি lowercase letter, একটি uppercase letter, একটি সংখ্যা এবং একটি special character থাকতে হবে।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে Forget Password অপশনের মাধ্যমে মোবাইলে OTP নিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা যাবে।

মোবাইলে নয়, কম্পিউটারে e-Return ব্যবহারের পরামর্শ

NBR বলছে, e-Return সিস্টেমের অনেক ফিচার মোবাইল ডিভাইসে পাওয়া যায় না। তাই রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রিটার্ন পূরণের সময় আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধের একাধিক তথ্য একই সঙ্গে যাচাই করতে হয়।

রিটার্ন দাখিলে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হবে না

FAQ-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় সাপোর্টিং ডকুমেন্ট আপলোড করার প্রয়োজন নেই। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সামনে রেখে সেগুলোর ভিত্তিতে নির্ভুল তথ্য সংশ্লিষ্ট ফিল্ডে দিতে হবে।

অর্থাৎ কাগজপত্র আপলোড না করলেও করদাতাকে বেতন বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সঞ্চয়পত্র, উৎসে করের সনদ, সম্পদের কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে রেখে রিটার্ন পূরণ করা উচিত।

রিটার্ন পূরণের সাতটি প্রধান ধাপ

NBR-এর FAQ অনুযায়ী e-Return পূরণের প্রক্রিয়াটি মূলত সাতটি অংশে বিভক্ত—

১. Assessment: Assessment Year, Income Year, আয়ের প্রধান উৎসসহ প্রাথমিক তথ্য।

২. Income: চাকরি, বাড়িভাড়া, কৃষি, ব্যবসা, মূলধনী লাভ, আর্থিক সম্পদ ও অন্যান্য উৎসের আয়।

৩. Rebate: জীবনবীমা, DPS, সঞ্চয়পত্র, GPFসহ প্রযোজ্য বিনিয়োগের তথ্য।

৪. Expenditure: বার্ষিক ব্যয়ের তথ্য।

৫. Asset & Liabilities: জমি-বাড়ি, ব্যাংক ও আর্থিক সম্পদ, গাড়ি, স্বর্ণ, নগদ অর্থ, ব্যবসার মূলধন ও ঋণসহ সম্পদ-দায়ের বিবরণ।

৬. Tax & Payment: মোট আয়, করের হিসাব, প্রদেয় কর এবং ইতোমধ্যে পরিশোধিত উৎসে কর ও অগ্রিম করের তথ্য।

৭. Return View: Submit করার আগে সম্পূর্ণ রিটার্ন দেখে ভুল-ত্রুটি যাচাই।

রিটার্ন একবারে সম্পূর্ণ করতে না পারলেও বিভিন্ন ধাপে তথ্য দিয়ে Save করে রাখা যায়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে Submit করা সম্ভব। Submit হওয়ার পর Acknowledgement Slip, Return, Tax Certificate এবং প্রয়োজনীয় চালান ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যায়।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ: iBAS-এর বেতন থেকে কাটা কর

সরকারি কর্মচারীদের জন্য e-Return-এর উৎসে করের অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। iBAS-এর মাধ্যমে বেতন থেকে কেটে রাখা আয়কর e-Return Ledger-এর Salary (iBAS) অপশন থেকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

অন্যদের ক্ষেত্রে Salary (others) নির্বাচন করে চালান, সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়নপত্রের তথ্য দিতে হবে। সেখানে চালান বা সার্টিফিকেটের মোট অর্থ এবং নিজের জন্য প্রযোজ্য উৎসে করের পরিমাণ আলাদাভাবে দেখাতে হবে।

ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও ডিভিডেন্ডের TDS সমন্বয়

ব্যাংকের সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও ডিভিডেন্ড থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করও e-Return-এ দাবি করা যায়।

এ জন্য Tax & Payment অংশে গিয়ে e-Return Ledger-এর Claim source tax অপশনে সংশ্লিষ্ট খাত নির্বাচন করে Sync from Income ব্যবহার করতে হবে।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—Income অংশে সংশ্লিষ্ট আয় আগে সঠিকভাবে ইনপুট করা থাকতে হবে। আয় দেখানো না থাকলে Sync from Income ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে না।

যৌথ সঞ্চয়পত্রে পুরো TDS দাবি করা যাবে না

যৌথ মালিকানার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে TDS-এর পুরো অর্থ নিজের নামে দাবি করা যাবে না। নিজের অংশের জন্য প্রযোজ্য TDS-ই TDS claim হিসেবে দেখাতে হবে।

NBR-এর FAQ-তে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, joint holder হলে নিজের অংশের TDS-ই দাবি করতে হবে।

গাড়ির অগ্রিম করের ক্রেডিট

গাড়ির অগ্রিম করের ক্রেডিট দাবি করতে Tax & Payment অংশের e-Return Ledger থেকে Claim AIT → AIT on Car নির্বাচন করে Unique Key বা Transaction No. দিতে হবে। এরপর Search করে তথ্য যাচাই ও Save করতে হবে।

অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যাবে

রিটার্ন পূরণের পর কোনো কর অপরিশোধিত থাকলে Tax & Payment অংশে তা Payable হিসেবে দেখা যাবে। Pay Now অপশন ব্যবহার করে e-Challan বা Sonali Bank Gateway-এর মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যায়।

FAQ অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও কর পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।

সম্পদ-দায়ের তথ্য এবারও গুরুত্বপূর্ণ

e-Return-এ শুধু আয় ও করের তথ্য দিলেই হবে না। Asset & Liabilities অংশে বিভিন্ন ধরনের সম্পদের তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ব্যবসার মূলধন
  • কৃষি ও অকৃষি সম্পত্তি
  • শেয়ার ও ডিবেঞ্চার
  • সঞ্চয়পত্র
  • FDR ও DPS
  • মোটরগাড়ি
  • স্বর্ণ ও হীরা
  • গৃহস্থালি সামগ্রী
  • নগদ অর্থ
  • ঋণ ও অন্যান্য দায়

আগের বছর সম্পদের তথ্য দেওয়া থাকলে Autofill অপশন ব্যবহার করে সেই তথ্য আনা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী তা Edit, Delete, Add বা Update করা যাবে।

পুরোনো সম্পদের মূল্য কীভাবে দেখাবেন

স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে আগের বছর যে মূল্য দেখানো হয়েছিল, সেটিই দেখাতে হবে। তবে নতুন করে কোনো সম্পদ কেনা হলে তার প্রকৃত ক্রয়মূল্য দেখাতে হবে।

এ ছাড়া আগের বছর যেসব সম্পদ নগদায়ন বা হস্তান্তর হয়ে গেছে, সেগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদ চলতি বছরের রিটার্নে দেখাতে হবে।

একাধিক চাকরির আয় একসঙ্গে দেখানো যাবে

একই বছরে দুই বা ততোধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে প্রতিটি চাকরির তথ্য আলাদাভাবে যোগ করা যাবে। Employment Income অংশে Add Employment ব্যবহার করে একাধিক চাকরি ও আয় প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এটি বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তনকারী করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বেতন ও উৎসে করের তথ্য সঠিকভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

চিকিৎসক ও আইনজীবীদের আয় কোন খাতে যাবে

NBR-এর FAQ অনুযায়ী চিকিৎসক ও আইনজীবীদের আয় Business Income হিসেবে দেখাতে হবে। নিয়মিত আয়ের ক্ষেত্রে Regular Business Income এবং উৎসে কর কর্তনের পরিস্থিতিতে Profession/Consultancy/Other Services-সংক্রান্ত নির্ধারিত অপশন ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

MPO-ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে

FAQ অনুযায়ী, MPO-ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের e-Return-এ বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

Bank TDS mismatch হলে কী করবেন

e-Return-এ অনেকের ক্ষেত্রে “Declared bank TDS is not found in declared income” অথবা “Bank TDS claimed more than declared income” ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

NBR-এর ব্যাখ্যা হলো, Income এবং Tax & Payment-এর Update Tax Payment অংশে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। দুই জায়গায় প্রকৃত তথ্য একইভাবে দিতে হবে।

এ ছাড়া Bank TDS-এর ক্ষেত্রে Sync from Income ব্যবহার করলে আগে দেওয়া তথ্য এনে সহজে সমন্বয় করা যায়।

সঞ্চয়পত্রের তথ্য না এলে

সঞ্চয়পত্রের Registration Number অথবা তারিখ ভুল দিলে Data not found সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো সঞ্চয়পত্রের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে না এলে Income অংশে সঠিক তথ্য দিয়ে পরে e-Return Ledger থেকে Sync from Income করার নির্দেশনা রয়েছে।

NID-তে নাম বা জন্মতারিখ সংশোধন হলে

জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম বা জন্মতারিখ পরিবর্তন করার পরও e-Return-এ পুরোনো তথ্য দেখা গেলে TIN সিস্টেমে Revalidate করে তথ্য সংশোধন এবং e-Return Profile থেকে Sync with TIN করতে হবে।

একইভাবে TIN নিবন্ধনের সময় Gender ভুল হলে TIN সিস্টেমে Edit/Correct/Update করে পরে e-Return Profile থেকে Sync with TIN করতে হবে।

কর পরিশোধের পরও Payable দেখালে

অনলাইনে কর পরিশোধের সময় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার পরও যদি e-Return-এ কর অপরিশোধিত দেখা যায়, তাহলে প্রথমে রিটার্ন Save করে Logout করতে হবে। পরে পুনরায় Login করে Tax and Payment পেজ পরীক্ষা করতে হবে। সমস্যা থেকে গেলে NBR-এর সহায়তা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ভুল রিটার্ন দাখিল হলে কী করবেন

অনলাইনে রিটার্ন Submit করার আগে Return View থেকে পুরো তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দাখিলের পর ভুল ধরা পড়লে FAQ অনুযায়ী দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রদত্ত FAQ-তে এ বিষয়ে সার্কেলে সংশোধিত পেপার রিটার্ন দাখিলের নির্দেশনাও উল্লেখ আছে।

তাই Submit করার আগে আয়, TDS, AIT, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়—সবগুলো অংশ পুনরায় মিলিয়ে দেখা নিরাপদ।

e-Return দাখিলের বড় সুবিধাগুলো

NBR-এর FAQ অনুযায়ী অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতা—

  • ঘরে বসে রিটার্ন জমা দিতে পারেন;
  • Acknowledgement Slip ডাউনলোড করতে পারেন;
  • Tax Certificate সংগ্রহ করতে পারেন;
  • Return-এর কপি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারেন;
  • কর পরিশোধের চালান ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারেন;
  • আগের বছর দাখিল করা রিটার্নের রেকর্ড দেখতে ও প্রিন্ট করতে পারেন।

সহায়তার জন্য NBR-এর কল সেন্টার

e-Return ব্যবহারে সমস্যা হলে NBR-এর কল সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে। FAQ-তে ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং ছুটির দিন ছাড়া সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সহায়তার কথা বলা হয়েছে। Etax Service Center Portal এবং বিভিন্ন কর অঞ্চল থেকেও সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

NBR-এর সাম্প্রতিক e-Return নির্দেশিকাতেও e-Return ব্যবহারের আগে FAQ, User Manual, Tax Certificate Manual ও Contact Us অংশ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালে e-Return ব্যবস্থায় আরও গুরুত্ব

NBR-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের e-Return চালু করা হয়েছে ২২ জুলাই ২০২৬। একই সময়ে NBR ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে e-Return সম্পর্কিত নতুন FAQ প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ চলতি করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে করদাতাদের জন্য নতুন নির্দেশনা ও সহায়তা কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।

করদাতাদের জন্য মূল বার্তা

NBR-এর FAQ বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দাঁড়ায় তথ্যের সামঞ্জস্য। শুধু রিটার্নের ঘর পূরণ করলেই হবে না—Income অংশে যে আয় দেখানো হবে, Tax & Payment অংশে সেই আয়ের বিপরীতে উৎসে কর বা TDS-এর তথ্যও সঠিকভাবে মিলতে হবে। একইভাবে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক সুদ, ডিভিডেন্ড, গাড়ির AIT, বেতন থেকে কর্তিত কর এবং সম্পদ-দায়ের তথ্যেও ভুল বা অসামঞ্জস্য থাকলে e-Return-এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সুতরাং রিটার্ন Submit করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে রেখে আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা, এরপর Return View-তে পুরো রিটার্ন পুনরায় পরীক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। NBR-এর প্রকাশিত FAQ-তে e-Return ব্যবস্থার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্য যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অনুসরণ করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় সাধারণ ভুল ও তথ্যের অসামঞ্জস্য অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

NBR-এর e-Return FAQ ও নির্দেশনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *