সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকরের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে ৫টি স্ল্যাবে ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বর্ধিত পেনশনের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হচ্ছে না; নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শতভাগ কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের নতুন নিট পেনশন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন ধরা হবে।
পেনশন বাড়ছে ৫টি স্ল্যাবে
নতুন কাঠামোয় কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পেনশন যত কম, বৃদ্ধির হার তত বেশি।
| ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন | নির্ধারিত বৃদ্ধির হার | নতুন নিট পেনশনের সীমা |
|---|---|---|
| ৯,০০০ টাকা বা কম | ১০০% | ১০,০০০–১৮,০০০ টাকা |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% | ১৮,০০১–৩৫,০০০ টাকা |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% | ৩৫,০০১–৪৯,০০০ টাকা |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% | ৪৯,০০১–৬২,০০০ টাকা |
| ৪০,০০১ টাকা বা বেশি | ৫৫% | ৬২,০০১–৭০,২০০ টাকা |
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই পাঁচটি স্ল্যাবেই নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে।
৯ হাজার টাকা বা কম পেনশনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি
যাঁরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ৯,০০০ টাকা বা তার কম নিট পেনশন পেতেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।
অর্থাৎ মূল পেনশনের সমপরিমাণ বৃদ্ধি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন সীমা ১০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ সীমা ১৮,০০০ টাকা।
উদাহরণ হিসেবে—
- ৫,০০০ টাকা → ১০,০০০ টাকা
- ৬,০০০ টাকা → ১২,০০০ টাকা
- ৭,০০০ টাকা → ১৪,০০০ টাকা
- ৮,০০০ টাকা → ১৬,০০০ টাকা
- ৯,০০০ টাকা → ১৮,০০০ টাকা
অর্থাৎ ৯,০০০ টাকা পাওয়া একজন পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হলে মাসে ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।
৯,০০১ থেকে ২০,০০০ টাকা পেনশনে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি
এই স্ল্যাবে বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ।
নতুন নিট পেনশনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮,০০১ টাকা থেকে ৩৫,০০০ টাকা।
যেমন, কারও পুরোনো নিট পেনশন ১০,০০০ টাকা হলে ৭৫ শতাংশ হিসাবে বৃদ্ধি হবে ৭,৫০০ টাকা। পূর্ণ বাস্তবায়নে তাঁর নতুন নিট পেনশন হবে ১৭,৫০০ টাকা।
আবার ২০,০০০ টাকা নিট পেনশন হলে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি অর্থাৎ ১৫,০০০ টাকা যোগ হয়ে নতুন পেনশন হবে ৩৫,০০০ টাকা।
তবে স্ল্যাবের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হওয়ায় সীমার কাছাকাছি থাকা পেনশনারদের ক্ষেত্রে শুধু শতাংশের হিসাব নয়, প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সীমাও বিবেচনায় নিতে হবে।
২০,০০১ থেকে ৩০,০০০ টাকা পেনশনে ৬৫ শতাংশ
এই শ্রেণির পেনশনভোগীদের জন্য বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ।
নতুন নিট পেনশনের সীমা ৩৫,০০১ থেকে ৪৯,০০০ টাকা।
উদাহরণ হিসেবে, ২৫,০০০ টাকা নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে—
২৫,০০০ × ৬৫% = ১৬,২৫০ টাকা বৃদ্ধি
ফলে পূর্ণ বাস্তবায়নে নতুন নিট পেনশন হবে—
২৫,০০০ + ১৬,২৫০ = ৪১,২৫০ টাকা।
অর্থাৎ মাসে তাঁর নিট পেনশন বাড়বে ১৬,২৫০ টাকা।
৩০,০০১ থেকে ৪০,০০০ টাকা পেনশনে ৬০ শতাংশ
এই স্ল্যাবে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ।
নতুন নিট পেনশনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯,০০১ থেকে ৬২,০০০ টাকা।
উদাহরণ হিসেবে, ৩৫,০০০ টাকা নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে—
৩৫,০০০ × ৬০% = ২১,০০০ টাকা বৃদ্ধি।
পূর্ণ বাস্তবায়নের পর তাঁর নতুন নিট পেনশন হবে—
৩৫,০০০ + ২১,০০০ = ৫৬,০০০ টাকা।
অর্থাৎ মাসে বাড়বে ২১,০০০ টাকা।
৪০,০০১ টাকা বা বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ
সবচেয়ে বেশি নিট পেনশন পাওয়া শ্রেণিতে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ।
এই শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন সীমা ৬২,০০১ টাকা এবং সর্বোচ্চ সীমা ৭০,২০০ টাকা।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব করলেও নতুন নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকার বেশি হবে না।
যেমন, ৫০,০০০ টাকা নিট পেনশনের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি হিসাব করলে ২৭,৫০০ টাকা হয়। কিন্তু ৫০,০০০ + ২৭,৫০০ = ৭৭,৫০০ টাকা হলেও নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ সীমা ৭০,২০০ টাকা।
তাই পূর্ণ বাস্তবায়নে ৫০,০০০ টাকা পাওয়া পেনশনারের নতুন নিট পেনশন হবে ৭০,২০০ টাকা এবং প্রকৃত বৃদ্ধি হবে ২০,২০০ টাকা।
তবে এখনই কি পুরো টাকা পাওয়া যাবে?
এখানেই ২০২৬ সালের পেনশন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পেনশনের পুরো বৃদ্ধির অঙ্ক একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপ: ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
এই সময়ে—
- ২০,০০১ টাকা ও তার বেশি নিট পেনশন স্ল্যাবের ক্ষেত্রে মোট বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে।
- ১ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবের ক্ষেত্রে মোট বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে।
অর্থাৎ অক্টোবর ২০২৬-এ একজন পেনশনারের হিসাবে পুরো ৫৫%, ৬০%, ৬৫%, ৭৫% বা ১০০% বৃদ্ধি একসঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে। প্রথম ধাপের নির্ধারিত অংশই কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত—
- ২০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব স্ল্যাবে মোট বৃদ্ধির ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।
- ১ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্ল্যাবে মোট বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭
১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন নিট পেনশন শতভাগ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ ২০২৬ সালে ঘোষিত পেনশনের পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পেনশনারকে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উদাহরণে বুঝুন—কার কত টাকা পাবেন?
উদাহরণ ১: পুরোনো নিট পেনশন ১০,০০০ টাকা
নির্ধারিত বৃদ্ধি = ৭৫%
মোট বৃদ্ধি = ৭,৫০০ টাকা
পূর্ণ নতুন পেনশন = ১৭,৫০০ টাকা
কিন্তু প্রথম ধাপে ৫০% বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
মোট বৃদ্ধির ৫০% = ৩,৭৫০ টাকা
প্রথম ধাপে মাসিক পেনশন = ১৩,৭৫০ টাকা
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ৭৫% বৃদ্ধি কার্যকর হলে = ১৫,৬২৫ টাকা
২০২৭ সালের জুলাই থেকে শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হলে = ১৭,৫০০ টাকা।
উদাহরণ ২: পুরোনো নিট পেনশন ২০,০০০ টাকা
মোট বৃদ্ধি = ১৫,০০০ টাকা
পূর্ণ নতুন পেনশন = ৩৫,০০০ টাকা
প্রথম ধাপে ৫০% বৃদ্ধি = ৭,৫০০ টাকা
প্রথম ধাপে পেনশন = ২৭,৫০০ টাকা
দ্বিতীয় ধাপে ৭৫% বৃদ্ধি = ১১,২৫০ টাকা
দ্বিতীয় ধাপে পেনশন = ৩১,২৫০ টাকা
তৃতীয় ধাপে পূর্ণ বৃদ্ধি হলে = ৩৫,০০০ টাকা।
উদাহরণ ৩: পুরোনো নিট পেনশন ২৫,০০০ টাকা
বৃদ্ধির হার = ৬৫%
মোট বৃদ্ধি = ১৬,২৫০ টাকা
পূর্ণ নতুন পেনশন = ৪১,২৫০ টাকা
প্রথম ধাপে ৪০% বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
১৬,২৫০ × ৪০% = ৬,৫০০ টাকা
তাই প্রথম ধাপে পেনশন = ৩১,৫০০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে ৭০% বৃদ্ধি কার্যকর হলে—
১৬,২৫০ × ৭০% = ১১,৩৭৫ টাকা
পেনশন = ৩৬,৩৭৫ টাকা।
২০২৭ সালের জুলাই থেকে পূর্ণ পেনশন = ৪১,২৫০ টাকা।
উদাহরণ ৪: পুরোনো নিট পেনশন ৩৫,০০০ টাকা
বৃদ্ধির হার = ৬০%
মোট বৃদ্ধি = ২১,০০০ টাকা
পূর্ণ নতুন পেনশন = ৫৬,০০০ টাকা।
প্রথম ধাপে ৪০% বৃদ্ধি = ৮,৪০০ টাকা
প্রথম ধাপে পেনশন = ৪৩,৪০০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে ৭০% বৃদ্ধি = ১৪,৭০০ টাকা
দ্বিতীয় ধাপে পেনশন = ৪৯,৭০০ টাকা।
২০২৭ সালের জুলাই থেকে পূর্ণ পেনশন = ৫৬,০০০ টাকা।
উদাহরণ ৫: পুরোনো নিট পেনশন ৫০,০০০ টাকা
এখানে সরাসরি ৫৫ শতাংশ যোগ করা যাবে না।
কারণ—
৫০,০০০ × ৫৫% = ২৭,৫০০ টাকা
কিন্তু ৫০,০০০ + ২৭,৫০০ = ৭৭,৫০০ টাকা, যা নতুন সর্বোচ্চ সীমা ৭০,২০০ টাকার চেয়ে বেশি।
তাই পূর্ণ বাস্তবায়নে নতুন নিট পেনশন হবে ৭০,২০০ টাকা।
প্রকৃত মোট বৃদ্ধি = ২০,২০০ টাকা।
প্রথম ধাপে ৪০% = ৮,০৮০ টাকা
প্রথম ধাপে পেনশন = ৫৮,০৮০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে ৭০% = ১৪,১৪০ টাকা
দ্বিতীয় ধাপে পেনশন = ৬৪,১৪০ টাকা।
২০২৭ সালের জুলাই থেকে পূর্ণ পেনশন = ৭০,২০০ টাকা।
৭০,২০০ টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের কী হবে?
নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে যেসব পেনশনভোগী এর চেয়ে বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পেনশন কমিয়ে ৭০,২০০ টাকা করা হবে না।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁরা পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন পাবেন।
এটি উচ্চ পেনশনপ্রাপ্ত বিদ্যমান পেনশনারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা।
গ্রস পেনশনের হার কি পরিবর্তন হয়েছে?
নিট পেনশন বাড়লেও প্রচলিত গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ৫ থেকে ২৫ বছর এবং সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার ২১ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত থাকবে।
৫ বছর চাকরির ক্ষেত্রে হার ২১ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে গ্রস পেনশনের হার ৯০ শতাংশ।
অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে নিট পেনশনের পুনর্নির্ধারণ ও স্ল্যাবভিত্তিক বৃদ্ধি; গ্রস পেনশন নির্ধারণের বিদ্যমান কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।
ছুটি নগদায়নেও সুবিধা বহাল
পেনশনের পাশাপাশি অবসরকালীন ছুটি নগদায়নের সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরকালে পাওনা অর্জিত ছুটির বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়া যাবে। এমনকি কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ না করলেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এই আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
আজীবন পারিবারিক পেনশনেও নতুন সুবিধা
মৃত সরকারি কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীর আজীবন পারিবারিক পেনশনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।
পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে প্রতি বছর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
বকেয়া পেনশনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য নিট পেনশনের বকেয়া পাবেন। একইভাবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে কেউ অবসর-উত্তর ছুটি শেষে অবসরে গেলে তাঁর গ্রস ও নিট পেনশন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি তথ্য
নতুন পেনশন কাঠামো বুঝতে পেনশনারদের জন্য পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—
প্রথমত, হিসাবের ভিত্তি হলো ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন।
দ্বিতীয়ত, বৃদ্ধির হার সবার জন্য এক নয়—৫৫%, ৬০%, ৬৫%, ৭৫% ও ১০০%—এই পাঁচটি হার রয়েছে।
তৃতীয়ত, সর্বোচ্চ নতুন নিট পেনশন ৭০,২০০ টাকা।
চতুর্থত, পুরো বর্ধিত পেনশন একসঙ্গে নয়; ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে।
পঞ্চমত, ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন নিট পেনশন শতভাগ কার্যকর হবে।
সারসংক্ষেপ
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর আওতায় পেনশনারদের জন্য সরকার মূলত একটি স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করেছে। কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি রাখা হয়েছে। ৯,০০১–২০,০০০ টাকার স্ল্যাবে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১–৩০,০০০ টাকায় ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকায় ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বাস্তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে কোনো পেনশনারের হাতে পুরো বর্ধিত অঙ্ক না-ও আসতে পারে। কারণ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপের নির্ধারিত অংশ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
ফলে পেনশনারদের ক্ষেত্রে শুধু ‘কত শতাংশ বাড়ল’—এটি জানাই যথেষ্ট নয়। ৩০ জুনের পুরোনো নিট পেনশন, সংশ্লিষ্ট স্ল্যাব, সর্বোচ্চ সীমা এবং কোন পর্যায়ে কত শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে—এই চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলেই প্রকৃত মাসিক পেনশন নির্ণয় করা যাবে।

