জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী সরকারি পেনশনভোগীদের নিট পেনশন বৃদ্ধির সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের বিদ্যমান নিট পেনশন, নির্ধারিত বৃদ্ধির হার এবং প্রযোজ্য সীমা বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্ধারিত পেনশন কার্যকর হবে। অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে। পূর্ণ বর্ধিত নিট পেনশন কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১ জুলাই ২০২৭।
পেনশন বৃদ্ধি কার্যকরের তিনটি ধাপ
নতুন পেনশন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো—একবারে পুরো বৃদ্ধির সুবিধা না দিয়ে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা।
প্রথম ধাপ: ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
এ সময়ে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে বর্ধিত পেনশনের একটি নির্দিষ্ট অংশ কার্যকর হবে।
- বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে মোট বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।
- বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার টাকার বেশি হলে মোট বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭
দ্বিতীয় ধাপে বর্ধিত পেনশনের কার্যকর অংশ আরও বাড়বে।
- বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে মোট বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
- বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার টাকার বেশি হলে মোট বৃদ্ধির ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।
তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭ থেকে
এই ধাপে নির্ধারিত পূর্ণ বর্ধিত নিট পেনশন কার্যকর হবে। প্রযোজ্য বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে বিবেচিত হবে।
এই ধাপভিত্তিক হার ও সময়সীমা নতুন বেতন স্কেলের প্রকাশিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে প্রত্যেক পেনশনভোগীর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আদেশের পূর্ণ শর্ত প্রযোজ্য হবে।
কোন পেনশনভোগী কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন?
সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণির পেনশনভোগীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
| বিদ্যমান মাসিক নিট পেনশন | নির্ধারিত বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| ৯,০০০ টাকা বা কম | ১০০% |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
| ৪০,০০১ টাকা বা বেশি | ৫৫% |
এখানে উল্লেখিত শতাংশ হলো নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী পেনশন বৃদ্ধির হার। এটি প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর হওয়া শতাংশের সঙ্গে এক বিষয় নয়। অর্থাৎ, পেনশনভোগীর শ্রেণি অনুযায়ী মোট বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হবে; এরপর বাস্তবায়নের সময়সূচি অনুযায়ী সেই বৃদ্ধির অংশ কার্যকর হবে।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ নিট পেনশনের সীমা
প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ নিট পেনশনের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির হার প্রযোজ্য হলেও এ শ্রেণির নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা ১৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া পেনশনভোগীদের জন্য সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আগে থেকেই এই সীমার বেশি নিট পেনশন উত্তোলনকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
পেনশন কীভাবে হিসাব করবেন?
পেনশন বৃদ্ধির হিসাব বুঝতে প্রথমে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের পরিমাণ জানতে হবে। এরপর ওই অঙ্কের ভিত্তিতে প্রযোজ্য বৃদ্ধির হার ও সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ সীমা বিবেচনা করে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করতে হবে। সবশেষে, নির্ধারিত তিন ধাপের সময়সূচি অনুযায়ী কতটুকু বৃদ্ধি কার্যকর হবে তা হিসাব করতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো পেনশনভোগীর বিদ্যমান নিট পেনশন যদি ৯,০০০ টাকা হয় এবং তাঁর ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী পূর্ণ বর্ধিত নিট পেনশন ১৮,০০০ টাকা হতে পারে। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে কত টাকা কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশে নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি অনুসারে বের করতে হবে।
পেনশন ফিক্সেশনে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
পেনশন পুনর্নির্ধারণের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
১. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি হিসেবে নিতে হবে।
২. পেনশনভোগী কোন শ্রেণিতে পড়েন, তা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বৃদ্ধির হার এবং সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ সীমা বিবেচনা করতে হবে।
৪. প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কার্যকর হওয়ার তারিখ অনুসারে হিসাব করতে হবে।
৫. বার্ষিক বৃদ্ধি, পূর্ববর্তী পেনশন নির্ধারণ এবং বিশেষ বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
৬. হিসাবের সঙ্গে সরকারি পেনশন আদেশ বা প্রজ্ঞাপনের কোনো অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে তা যাচাই করতে হবে।
বকেয়া পেনশন পাওয়া যাবে কি?
নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আদেশে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ওই তারিখ থেকে প্রাপ্য বকেয়া পেনশন সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রত্যেক পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে বকেয়ার পরিমাণ, পরিশোধের সময় এবং সমন্বয়ের পদ্ধতি একই হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, পেনশন নির্ধারণের বিবরণী এবং অর্থ ছাড়ের নির্দেশনা অনুসারে প্রকৃত পাওনা নির্ধারিত হবে।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তিন ধাপে বাস্তবায়ন, শ্রেণিভিত্তিক বৃদ্ধির হার এবং নিট পেনশনের সীমা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পেনশনভোগীদের নিজেদের প্রাপ্য অর্থ বুঝতে হলে শুধু বৃদ্ধির শতাংশ জানলেই হবে না; বরং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের নিট পেনশন, প্রযোজ্য শ্রেণি, ধাপভিত্তিক কার্যকর হার এবং সরকারি আদেশের শর্ত একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন।


