আজকের খবর ২০২৫

ভূমিহীনদের জন্য সুসংবাদ! খাস জমি নিজের নামে নামজারি বা মিউটেশন করার সহজ প্রক্রিয়া কি?

দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে এলো ভূমি প্রশাসন। সরকারি খাস জমি নিজের নামে নামজারি বা মিউটেশন করার প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে আরও সহজ ও সুনির্দিষ্ট। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমিহীন এবং নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিকরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

✅ আপনার যোগ্যতা কী?

খাস জমি নিজের নামে নামজারি করার জন্য আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত যোগ্যতাগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

  • ভূমিহীন: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভূমিহীন হতে হবে এবং তাঁর নিজের নামে কোনো জমি থাকা যাবে না।

  • নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের নাগরিক এবং বৈধভাবে বসবাসকারী হতে হবে।

  • অগ্রাধিকার: ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

  • কৃষকদের জন্য: কৃষিজমি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

  • পারিবারিক সীমাবদ্ধতা: আবেদনকারীর পরিবারের কোনো সদস্যের নামেও কোনো জমি থাকা চলবে না।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নামজারির আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  • জমির দলিল (যদি থাকে)।

  • সর্বশেষ খতিয়ান বা পর্চার অনুলিপি

  • ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রমাণপত্র

  • ওয়ারিশ সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যা তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা)।

  • বণ্টননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

  • স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যেমন—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সুপারিশপত্র

নামজারির ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

খাস জমি নামজারি বা মিউটেশন করার প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়:

  1. আবেদনপত্র সংগ্রহ: প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম (যেমন: ফর্ম নম্বর ১০৫) সংগ্রহ করতে হবে।

  2. আবেদন জমা: সংগৃহীত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে এবং সব কাগজপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে জমা দিতে হবে।

  3. অনলাইন আবেদন (ঐচ্ছিক): নাগরিকরা বর্তমানে সরকারি পোর্টাল যেমন— Portal.gov.bd বা Mutation.Land.Gov.BD-এর মাধ্যমে ‘ই-নামজারি’ প্রক্রিয়ায় অনলাইনেও আবেদন জমা দিতে পারেন।

  4. যাচাই ও শুনানি: আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা আবেদনটি যাচাই-বাছাই করবেন। এরপর শুনানির জন্য আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকার জন্য ডাকা হতে পারে। বর্তমানে এই শুনানি অনলাইনেও সম্পন্ন করা সম্ভব।

  5. নামজারি সম্পন্ন: আবেদন যাচাই ও শুনানি শেষে অনুমোদিত হলে, ভূমি অফিসে নামজারি প্রক্রিয়াটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা হবে। নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারী একটি ডিসিআর (DCR) বা খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য

খাস জমি নামজারির প্রক্রিয়াটি সরাসরি সরকারি নীতির ওপর নির্ভরশীল। নীতিমালায় যেকোনো সময় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আবেদনকারীকে সরাসরি উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খাস জমি কি অন্যত্র বিক্রি করা যায়?

খাস জমি বা সরকারি জমি সাধারণত বিক্রি করা যায় না। খাস জমি হলো সরকারের মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং সরকার এটি কোনো ভূমিহীন বা যোগ্য ব্যক্তিকে মালিকানা হিসেবে বিক্রি করে না, বরং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সাধারণত বন্দোবস্ত (Lease) বা ইজারা দিয়ে থাকে।

এখানে মূল বিষয়গুলো হলো:

  • মালিকানা সরকারের: খাস জমির মূল মালিকানা সব সময় সরকারের থাকে।

  • বিক্রি বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ: কৃষি খাস জমি বা অকৃষি খাস জমি যা ভূমিহীনদের বা অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, সেই বন্দোবস্ত দেওয়া জমি কোনোক্রমেই বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যায় না। এই শর্তটি সাধারণত বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ফরমে (চুক্তিপত্র) স্পষ্ট করে উল্লেখ করা থাকে।

  • উত্তরাধিকার: যদিও বিক্রি করা যায় না, তবে বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তি মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সরকারের নীতি অনুযায়ী সেই জমির ব্যবহার ও অধিকার পেতে পারেন এবং তাদের নামে নামজারি হতে পারে। কিন্তু এর বাইরে তারা জমিটি অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে পারেন না।

  • আইনগত দিক: যদি কেউ খাস জমি বিক্রি করার চেষ্টা করেন বা অবৈধভাবে বিক্রি হয়, তবে তা বেআইনি এবং সরকার সেই বন্দোবস্ত বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

সংক্ষেপে: আপনি যে প্রক্রিয়ায় খাস জমি নিজের নামে নামজারি করার কথা বলেছেন, তা হলো সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত বা ইজারা নেওয়া। এই বন্দোবস্তের জমি আপনি অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। এই বিষয়ে আপনার আর কোনো কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

খাস জমি কী নামজারি করা যায়?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে। খাস জমি ক্রয় বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যায় না বিধায় তৎসূত্রে নামজারি করা যায় না। কিন্তু সরকার খাস জমি কাউকে স্থায়ী বন্দোবস্ত দিলে তার নামে নামজারি করা যায় এবং এইরূপ স্থায়ী বন্দোবস্তকৃত খাসজমি কেবলমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারি করা যায়। যেমন- ভূমিহীনদের মাঝে সরকার যে খাসজমি দিয়ে থাকেন তা উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারি করা যায়। আবার স্থায়ী বন্দোবস্তকৃত খাসজমি অধিগ্রহণ সূত্রে মালিকানা পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রেও নামজারি করা যায়। ভূমিসেবা পেতে ১৬১২২ নম্বরে কল করুন অথবা ভিজিট করুন। Land.gov.bd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *