২০২৬ সালে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম এবং সম্প্রতি জারি করা অধ্যাদেশগুলো জমি জমা সংক্রান্ত অপরাধ দমন ও কৃষি জমি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আপনার জানার সুবিধার্থে প্রধান পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জমির মালিকানায় ৬ ধরনের দলিল বাতিল
নতুন নিয়মে ৬ ধরনের দলিলের ভিত্তিতে আর জমির মালিকানা দাবি করা যাবে না। এমনকি অতীতে যারা এসব দলিলে মালিকানা পেয়েছিলেন, তাদের মালিকানাও অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে:
জাল বা ভুয়া দলিল: ভুয়া এনআইডি বা মৃত ব্যক্তির সই ব্যবহার করে করা দলিল।
অতিরিক্ত জমি রেজিস্ট্রি: চুক্তি বা পূর্বের খতিয়ানের চেয়ে বেশি জমি দলিলে লিখলে বাড়তি অংশের মালিকানা বাতিল হবে।
ওয়ারিশ ঠকিয়ে নামজারি: ভাই-বোন বা অন্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে নিজের নামে রেকর্ড বা নামজারি করলে তা সরাসরি বাতিলযোগ্য।
খাস জমির অবৈধ কেনাবেচা: সরকারি খাস জমি বা অর্পিত সম্পত্তির ভুয়া দলিল।
পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রয়: নিজের প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করলে সেই দলিলের আইনি ভিত্তি থাকবে না।
হাতে লেখা খতিয়ান: কিউআর কোড যুক্ত স্মার্ট পর্চা ছাড়া হাতে লেখা পুরনো খতিয়ান মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।
২. কৃষি জমি রক্ষা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬
সম্প্রতি ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি জমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে:
কৃষি জমিতে স্থাপনা নিষিদ্ধ: তিন বা ততোধিক ফসল হয় এমন জমিতে কোনো বাণিজ্যিক ঘরবাড়ি, রিসোর্ট বা শিল্প কারখানা করা যাবে না।
তামাক চাষে নিষেধাজ্ঞা: তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শাস্তি: কৃষি জমির ক্ষতি করলে বা নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মাটি কাটা: ইটভাটা বা অন্য প্রয়োজনে কৃষি জমির উপরের অংশ (Topsoil) কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ।
৩. একদিনেই নামজারি (মিউটেশন)
২০২৬ সালের শুরু থেকে সরকার এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে জমি রেজিস্ট্রির দিনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন হয়। এর ফলে ক্রেতাকে আলাদাভাবে নামজারির জন্য আবেদন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
৪. অবৈধ দখলের আইনি পরিবর্তন
আগে নিয়ম ছিল ১২ বছর কোনো জমি দখলে রাখলে মালিকানা দাবি করা যেত। নতুন আইনের প্রয়োগে এখন শত বছর দখলে থাকলেও বৈধ দলিল ও প্রমাণ ছাড়া কেউ মালিক হতে পারবেন না। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সরাসরি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরামর্শ: আপনার জমির বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে বা কোনো বিরোধ থাকলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করে সরাসরি আইনি সহায়তা নিতে পারেন।
আপনি ভূমি আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে কিছু বই পড়তে পারেন। নিচে কিছু জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক বইয়ের একটি তালিকা দেওয়া হলো।
