কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে একটি বিস্তারিত নীতিমালা জারি করেছে। বিশেষ করে অতি আপনজনের মৃত্যু বা আদালতের বিশেষ নির্দেশনায় বন্দীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি অ্যাডভোকেট মনির নামে এক আইনজীবীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে এই নীতিমালার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে।
প্যারোলে মুক্তির প্রধান শর্তাবলি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার-২ শাখা কর্তৃক জারিকৃত এই নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি বা সাধারণ—যেকোনো শ্রেণির কয়েদি বা হাজতি বন্দী নির্দিষ্ট কিছু কারণে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে পারবেন:
১. নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু: বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে বন্দী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। ২. বিশেষ ক্ষেত্রে মুক্তি: নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু ছাড়াও আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
সময়সীমা ও নিরাপত্তা: নীতিমালা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা সাধারণত ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে সরকার চাইলে বিশেষ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। মুক্তির পুরো সময় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে এবং জেলা কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ বন্দীকে বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুনরায় কারাগারে ফেরত পৌঁছে দিতে হবে।
আবেদন ও মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ: নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জেলার ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট’ প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে:
যদি বন্দী একই জেলার কারাগারে আটক থাকেন এবং ঘটনা সেই জেলার ভেতরেই হয়, তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুর করবেন।
যদি বন্দী এক জেলার কারাগারে আটক থাকেন কিন্তু গন্তব্য অন্য জেলায় হয়, তবে দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। এক্ষেত্রে দুর্গম এলাকা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে কর্তৃপক্ষ প্যারোল নামঞ্জুর করার ক্ষমতাও রাখেন।
পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিল: এই নীতিমালা জারির ফলে ২০০৭ এবং ২০১০ সালে জারিকৃত এ সংক্রান্ত আগের সকল নীতিমালা ও স্মারক বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ২০১৬ সালের ১ জুন তারিখের এই প্রজ্ঞাপনটিই প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে কার্যকর আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

