আজকের খবর ২০২৬

জমির সীমানা নিয়ে দুশ্চিন্তা? জেনে নিন সরকারি আমিন পাওয়ার সহজ উপায় ও খরচ

সূচীপত্র

সরকারি আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপের ফি মূলত জমির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত উপজেলা ভূমি অফিস (AC Land Office) বা সেটেলমেন্ট অফিসের মাধ্যমে এই আবেদন করতে হয়।

২০২৪-২৫ সালের প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপার আনুমানিক ফি নিচে দেওয়া হলো:

জমির পরিমাণ অনুযায়ী সরকারি ফি (আনুমানিক)

জমির পরিমাণআনুমানিক ফি
১০ শতক পর্যন্ত১,০০০ টাকা
১০ থেকে ৩০ শতক২,০০০ টাকা
৩০ থেকে ৫০ শতক৩,০০০ টাকা
৫০ শতকের উপরেআলোচনা সাপেক্ষে বা নির্ধারিত হারে বৃদ্ধি পায়

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • অতিরিক্ত সময়: যদি জমি পরিমাপ করতে একদিনের বেশি সময় লাগে, তবে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা হারে ফি যুক্ত হতে পারে।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: জমি মাপার জন্য সরাসরি আবেদন এখন অনেক ক্ষেত্রে গৃহীত হয় না। অনেক সময় আদালতের আদেশ বা নির্দিষ্ট কারণ (যেমন সীমানা নির্ধারণ বা বাটোয়ারা মামলা) দেখিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করতে হয়।

  • চালান: এই ফি সাধারণত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি চালানে জমা দিতে হয়।

সতর্কতা: সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন করবেন না। অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে দালালের উপদ্রব থাকতে পারে, তাই সরাসরি ভূমি অফিসে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার নিউজ রিপোর্ট নিচে দেওয়া হলো। আপনি এটি কোনো নিউজ পোর্টাল, পত্রিকা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।


জমি পরিমাপে ব্যক্তিগত আমিনে ঝুঁকি: আইনি সুরক্ষায় সরকারি আমিনের বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

বর্তমানে জমি কেনাবেচা বা সীমানা নির্ধারণে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুল পরিমাপ। অনেকেই দ্রুত সেবা পেতে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় আমিন দিয়ে জমি মেপে থাকেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই মাপে অমিল পাওয়া যাচ্ছে—এটাই বর্তমান বাস্তব চিত্র। ব্যক্তিগত আমিনের মাপে ভুল বা দুর্নীতির ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি আদালতে এর কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতাও নেই।

এ অবস্থায় জমির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা এড়াতে সরকারি আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জমি সংক্রান্ত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ল্যান্ড সলিউশন বিডি’ সম্প্রতি ভূমি মালিকদের সচেতনতায় এ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও তথ্য প্রকাশ করেছে।

ব্যক্তিগত আমিনে কেন ঝুঁকি?

ল্যান্ড সলিউশন বিডি-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আমিনের মাপ অনেক সময় বিজ্ঞানসম্মত হয় না এবং উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টার কারণে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ব্যক্তিগত আমিনের দেওয়া ম্যাপ বা রিপোর্ট আদালতের কোনো মামলায় প্রমাণ হিসেবে টিকবে না। ফলে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ বা মামলা হলে মালিককে পুনরায় বিপাকে পড়তে হয়।

সরকারি আমিনের মাধ্যমে জমি মাপার ৫টি ধাপ:

সরকারি সার্ভেয়ার বা আমিনের সেবা পেতে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি:

১. লিখিত আবেদন: আপনার নিকটস্থ উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land Office) গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনে জমির মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও সমস্যার বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

২. কাগজপত্র জমা: আবেদনের সাথে জমির মূল দলিল বা উত্তরাধিকার সনদ, সর্বশেষ খতিয়ান (CS/SA/RS/BS), মিউটেশন কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

৩. সরকারি ফি প্রদান: নির্ধারিত ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে রসিদটি অফিসে দাখিল করতে হবে।

৪. মাঠ পর্যায়ে পরিমাপ: ফি জমা হওয়ার পর অফিস থেকে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট দিনে সরকারি আমিন বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করবেন। এসময় উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে উপস্থিত রাখা হয় যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ না থাকে।

৫. অফিসিয়াল প্রতিবেদন: মাপ শেষ হওয়ার পর আমিন একটি সরকারি প্রতিবেদন বা রিপোর্ট তৈরি করবেন। এই রিপোর্টের একটি কপি অফিসের রেকর্ডে থাকবে এবং একটি কপি মালিককে দেওয়া হবে।

নিরাপদ জমির নিশ্চয়তায় ‘ল্যান্ড সলিউশন বিডি’

দেশের ৬৪ জেলার সার্ভেয়ারদের সমন্বিত সংগঠন হিসেবে ল্যান্ড সলিউশন বিডি বর্তমানে আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমি পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা জানায়, সরকারি নিয়ম মেনে আধুনিক প্রযুক্তিতে ১০০% নির্ভুল ডিজিটাল সার্ভে করলে জমির মালিকদের মানসিক শান্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির মাপে স্বচ্ছতা থাকলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের মামলা-মোকদ্দমা ও বিরোধ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। তাই যেকোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বা ক্রয়-বিক্রয়ের আগে সরকারি আমিনের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সরকারি আমি কোথায় পাওয়া যায়?

সরকারি আমিন বা সার্ভেয়ারদের সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু সরকারি দপ্তরে পাওয়া যায়। সরাসরি সাধারণ মানুষের আবেদনের ভিত্তিতে আমিন পাওয়া এখন কিছুটা কঠিন হলেও, আপনি নিচের জায়গাগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:

১. উপজেলা ভূমি অফিস (AC Land Office)

আপনার জমির অবস্থান যে উপজেলায়, সেই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করুন। সাধারণত সীমানা নির্ধারণ বা জমি মাপার জন্য সেখানে আবেদন করতে হয়। আবেদন মঞ্জুর হলে অফিস থেকে একজন সরকারি সার্ভেয়ার বা আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২. সেটেলমেন্ট অফিস (Settlement Office)

যদি আপনার এলাকায় নতুন করে জরিপ বা রেকর্ড (যেমন- বিএস বা আরএস জরিপ) চলছে, তবে আপনি স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিস বা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। জরিপ চলাকালীন তারা সরকারি আমিন নিয়োগ করে থাকে।

৩. আদালত (Court)

জমির মালিকানা বা সীমানা নিয়ে যদি কোনো মামলা (যেমন- বাটোয়ারা মামলা) আদালতে চলমান থাকে, তবে আদালত থেকে ‘কমিশন আমিন’ নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে সরকারি আমিন বা সার্ভেয়ার জমি পরিমাপ করতে আসেন।

৪. ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (DLRS)

বড় ধরনের বা বিশেষ কোনো প্রকল্পের জন্য জমি পরিমাপের প্রয়োজন হলে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে সাধারণ ব্যক্তিগত কাজের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসই প্রধান জায়গা।


সরকারি আমিন পাওয়ার সঠিক পদ্ধতি:

১. সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে গিয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিন। ২. আবেদনের সাথে জমির খতিয়ান ও দলিলের ফটোকপি সংযুক্ত করুন। ৩. সরকার নির্ধারিত ফি বা ডিমান্ড নোট অনুযায়ী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রসিদ জমা দিন। ৪. এরপর অফিস থেকে আমিনকে জমি মাপার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

মনে রাখবেন: বর্তমানে সরাসরি আবেদনের চেয়ে আদালতের মাধ্যমে বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রয়োজনে সরকারি আমিন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জরুরি প্রয়োজনে আপনি সরকারি লাইসেন্সধারী বা অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ সার্ভেয়ারের সাহায্যও নিতে পারেন, যারা স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *